ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, নড়াইল-১ (কালিয়া-নড়াইল আংশিক) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ততই বাড়ছে। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রে নির্বাচনি হিসাব-নিকাশ। তবে এই আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর শক্ত অবস্থান ভোটের সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে, যাকে নিজেদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে জামায়াতে ইসলামী।
নড়াইল-১ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। তবে দলীয় কোন্দলের কারণে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) বিএম নাগিব হোসেন।
মূলত কালিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে। দলটির বহিষ্কৃত ও বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ ধানের শীষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নাগিব হোসেনের ‘কলস’ প্রতীকের পক্ষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই ভোট বিভাজন বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বিএনপির এই অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির একক প্রার্থী জেলা সেক্রেটারি মো. ওবায়দুল্লাহ কায়সার ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। জামায়াতের ভেতরে কোনো দৃশ্যমান কোন্দল না থাকায় তারা সুসংগঠিতভাবে প্রচার চালাচ্ছে। দলটির কৌশলগত ধারণা হলো—বিএনপির ভোট ভাগাভাগি এবং আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের নীরব সমর্থন শেষ পর্যন্ত তাদের বিজয়ের পথ সুগম করবে।
ফ্যাক্টর যখন উন্নয়ন ও আওয়ামী ভোট ব্যাংক
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও এই জনপদে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। তবে নির্বাচনি মাঠে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোট ব্যাংক এখনো একটি বড় ফ্যাক্টর। গুঞ্জন রয়েছে, দলীয় মামলার জেরে আওয়ামী লীগের ভোটারদের একটি অংশ ধানের শীষের বদলে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাগিব হোসেনের দিকে ঝুঁকতে পারে।
প্রার্থীদের বক্তব্য: পাল্টাপাল্টি জয়ের দাবি
বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম (বিএনপি): > “বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সারাদেশে ধানের শীষের যে গণজোয়ার, তাতে সব ষড়যন্ত্র ভেসে যাবে। ৩০ বছর মানুষের পাশে ছিলাম, তারা আমাকে হতাশ করবে না।”
> মো. ওবায়দুল্লাহ কায়সার (জামায়াতে ইসলামী): > “সাধারণ মানুষের মধ্যে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ব্যাপক সাড়া দেখছি। ভোটাররা এবার সৎ ও যোগ্য প্রার্থী বেছে নেবে। ইনশাআল্লাহ, ১২ ফেব্রুয়ারি জয়ের হাসি আমরাই হাসব।”
বিএম নাগিব হোসেন (স্বতন্ত্র): > “তৃণমূলের ভোটার ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা আমাদের সাথে আছেন। আমাদের লড়াই জনবিচ্ছিন্ন প্রার্থীর বিপক্ষে। কোনো হুমকি-ধামকিতে আমরা পিছপা হবো না।”
নড়াইল-১ আসনের এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবেন, তা নির্ভর করছে সাধারণ ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর। তবে বিএনপির ভোট যদি শেষ পর্যন্ত সংহত না হয়, তবে তার সরাসরি সুবিধা জামায়াত বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঘরে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

