দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার রনটি গ্রামে ব্যবসায়ী সাধন চন্দ্র রায় (২২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য চার দিন পর উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু মনোজিৎ রায় (২০) এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (২৮ জুন) দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
নিহত সাধন চন্দ্র রায় ইশানিয়া ইউনিয়নের রনটি গ্রামের মিনাল চন্দ্র রায়ের একমাত্র সন্তান। তিনি স্থানীয় বাজারে ওষুধের ব্যবসা করতেন। অভিযুক্ত মনোজিৎ রায় একই এলাকার বাসিন্দা তপন কুমার রায়ের ছেলে এবং সাধনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মে মনোজিৎ সাধনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। চুক্তি ছিল, ৩ জুনের মধ্যে ১১ হাজার টাকা পরিশোধ করবেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দেওয়ায় সাধনের পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। এরপর সাধনের মা মনোজিতের মাকে বিষয়টি জানালে তিনি ছেলেকে বকাঝকা করেন। এতে মনোজিৎ ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
২৩ জুন রাতে তিনি সাধনকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মনোজিৎ বাসে ব্যবহৃত লাঠি দিয়ে আঘাত করে সাধনকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ও মোটরসাইকেলটি পুকুরে ফেলে পালিয়ে যান।
২৫ জুন সকালে স্থানীয়রা পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ ও সিআইডির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে।
পরদিন নিহতের পরিবার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ মনোজিৎ রায়কে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করে এবং পুলিশকে নিয়ে গিয়ে পুকুর থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে।
এ সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সিফাত-ই-রাব্বানী, কাহারোল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ও বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান জাহিদ

