মণিরামপুরে হুন্ডি ব্যবসায়ী প্রদীপকে আটকের পর ‘রহস্যজনক’ মুক্তি

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর যশোরের মণিরামপুরে আলোচিত হুন্ডি ব্যবসায়ী প্রদীপ বিশ্বাসকে মধ্যরাতে আটকের পর রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় তার ফিরে আসা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায় অস্বীকারের ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক ধোঁয়াশা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
প্রদীপ বিশ্বাস উপজেলার কুলটিয়া গ্রামের পঞ্চরাম বিশ্বাসের ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মশিহাটি ও বেনাপোলে ‘মানি চেঞ্জার’ ব্যবসার আড়ালে বিশাল হুন্ডি সিন্ডিকেট ও মানি লন্ডারিং পরিচালনা করে আসছেন।

* আটক ও মুক্তি: প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সোমবার ভোররাতে সাদা পোশাকধারী একদল সদস্য ডিবি পরিচয়ে প্রদীপকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। তবে আশ্চর্যজনকভাবে দুপুরের পর তিনি এলাকায় ফিরে আসেন।
* পুলিশের ভাষ্য: রহস্যজনকভাবে যশোর ডিবি এবং মণিরামপুর থানা—উভয় পক্ষই এই আটকের বিষয়ে কিছুই জানে না বলে দাবি করেছে। ডিবি ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী এবং মণিরামপুর থানার ওসি রজিউল্লাহ জানিয়েছেন, তাদের কোনো টিম এ ধরনের অভিযানে অংশ নেয়নি।
* রাজনৈতিক ছত্রছায়া: অভিযোগ রয়েছে, প্রদীপ বিশ্বাস আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের ‘ডোনার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে পটপরিবর্তনের পর তিনি বর্তমানে বিএনপির একটি অংশের আশ্রয় নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হয়েছেন এবং জনৈক প্রার্থীর আর্থিক জোগানদাতা হিসেবে কাজ করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও বর্তমান পরিস্থিতি
স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করছে, প্রভাবশালী একটি মহলের তদবিরে এবং বিশেষ সমঝোতার মাধ্যমেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন নীরবতা এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—কার নির্দেশে এবং কোন প্রক্রিয়ায় একজন চিহ্নিত হুন্ডি ব্যবসায়ীকে এভাবে মুক্তি দেওয়া হলো?
> তদন্তের দাবি: এলাকাবাসীর মতে, এই রহস্যজনক মুক্তির নেপথ্যের কুশীলবদের খুঁজে বের না করলে সীমান্ত এলাকায় হুন্ডি ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের অপতৎপরতা আরও বাড়বে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ