ধর্ষণ মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন মাহিনুর, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

আরো পড়ুন

যশোর জেলা ছাত্রদলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রাফার বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাৎ এবং ভিডিও ফাঁসের হুমকির অভিযোগ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সরে দাঁড়ালেন ভুক্তভোগী মাহিনুর আক্তার মাহি। রোববার যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন রাফা, আর তাকে (মাহিকে) এ ঘটনায় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মাহিনুর জানান, রাফার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং সেই সম্পর্কে সাময়িক সমস্যা হলেও তা এখন মীমাংসিত। ২৩ মে তিনি হঠাৎ যশোরে এসে রাফার বাসায় যান, তবে রাফা তা মেনে নিতে পারেননি। এ সময় মঞ্জুরুল হক সুমন নামে একজন তাকে ফোন করে রাফার বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যান। পরে যশোরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক বিএম আকাশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয় এবং নানা রকম হুমকির মুখে তিনি কোতোয়ালি থানায় আশ্রয় নেন।

মাহির অভিযোগ, পুলিশসহ সুমন ও আকাশের চাপে পড়ে তিনি রাফার বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাফার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি আরও জানান, রাফার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক এখনো বিদ্যমান এবং রাফা কোনো অন্যায় করেননি। মাহির বক্তব্যে রাফার ছোট বোন সাদিয়া সুলতানাও একমত পোষণ করেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিএম আকাশ দাবি করেন, তিনি এ ঘটনার সময় যশোরে ছিলেন না এবং সরাসরি মাহির সঙ্গে দেখা হয়নি। তিনি শুধু এক নারীর সহায়তার অনুরোধে কিছু সহযোগিতা করেছেন, কিন্তু মামলা করাতে কোনো চাপ প্রয়োগ করেননি। মঞ্জুরুল হক সুমন বলেন, মাহির চাচাতো ভাইয়ের অনুরোধে তিনি সাহায্য করেছেন এবং মাহির বর্তমান অভিযোগগুলো মিথ্যা।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত খান জানান, মেয়েটি মামলা করেছিল, পরে হয়তো বিষয়টি আপসের মাধ্যমে মীমাংসিত হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, শনিবার দায়ের করা মামলায় মাহি অভিযোগ করেছিলেন যে, রাফা বিয়ের প্রলোভনে তাকে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। তবে একদিন পর রাফাকে জেলা ছাত্রদলের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ