সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ক্রিম আপা’ নামে পরিচিত শারমীন শিলা সম্প্রতি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। নিজের দেড় বছর বয়সী কন্যাশিশুকে নিয়ে বানানো নানা ভিডিও ঘিরে তৈরি হয়েছে সমালোচনার ঝড়। ভিডিওতে দেখা যায়, কখনো মেয়েকে কড়া রাসায়নিক দিয়ে চুল রং করা হচ্ছে, কখনো পুরো মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হচ্ছে, কখনো আবার কান ফুটো করে ভারী দুল পরানো হচ্ছে। এসব দৃশ্য অনেক সময় শিশুর কান্না ও ভয়ের সঙ্গে প্রকাশ পায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু নিয়ে ‘কনটেন্ট’
শারমীন শিলার মূল পেশা একটি বিউটি পারলার পরিচালনা। সাভারের বাইপাইলে তার রয়েছে ‘ক্রিম আপা বিউটি পারলার’। তিনি গায়ের রং ফর্সা করার নানা প্রসাধনী বিক্রি করেন, যা নিয়েই মূলত তার কনটেন্ট। তবে রান্না ও ঘরোয়া দৃশ্যের মধ্যেও নিয়মিতভাবে তার শিশু সন্তানদের ব্যবহার করা হয়।
১২ বছর বয়সী ছেলেটিকে তুলনামূলকভাবে ভালো ব্যবহার করলেও ছোট মেয়েটির ক্ষেত্রে তার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আইনি উদ্যোগ
শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘একাই একশো’, যার সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাদাত রহমান জড়িত, বিষয়টি নিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়।
ইতিমধ্যে সাভার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমীন শিলাকে ব্যাখ্যা দিতে চিঠি দিয়েছেন। সন্তোষজনক জবাব না পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমি নির্দোষ—হিংসার শিকার: শিলা ❞
শারমীন শিলা অবশ্য গণমাধ্যমে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন,
“আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমি সন্তানদের ভালোবাসি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভিডিও আর করব না।”
শিশু সুরক্ষায় নীতিমালার দাবি
সাদাত রহমান শিশুদের ব্যবহার করে অনলাইন ‘ভিউ ব্যবসা’ এখনই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নির্দিষ্ট বয়সের আগে কোনো শিশুকে কনটেন্টে ব্যবহার করা যাবে না, সরকারের অনুমতি ছাড়া কনটেন্ট প্রকাশও বন্ধ করতে হবে।”
‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন,
“ক্রিম আপার কর্মকাণ্ডকে নির্যাতন বলা না গেলেও তা শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য বিপজ্জনক। এ ধরনের আচরণ অভিভাবকসুলভ নয়, যা সামাজিক ও নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।”

