বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার জানায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতির অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার বা দুই হাজার ৮১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। একই সময়ে, বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত বিভিন্ন তহবিলসহ মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার বা দুই হাজার ৫৭২ কোটি ৮৮ লাখ ২০ হাজার ডলার।
সম্প্রতি আমদানি ব্যয় কমে আসা এবং প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পেলে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার নিতে হয় না, বরং তারা রেমিট্যান্সের নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করে। এছাড়া, বৈদেশিক ঋণ, সহায়তা এবং বিনিয়োগের ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে জমা হয়। রফতানি আয়ও রিজার্ভের একটি উৎস। বর্তমানে, রফতানি আয়ের বাইরে অন্যান্য সব উৎসে ইতিবাচক প্রবাহ অব্যাহত থাকায় রিজার্ভের হ্রাসের হার কিছুটা কমেছে
তথ্য অনুযায়ী, আগের মাস অক্টোবরের ৮ তারিখে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ১৯৮২ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার ডলার। এর মানে, এক মাসে রিজার্ভ বেড়েছে ১৮ কোটি ১৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তবে, ব্যবহারযোগ্য নিট রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার।
এছাড়া, দুই-এক দিনের মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধ করতে হবে। এর পর, রিজার্ভের পরিমাণ ১৯ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র হোসনে আরা শিখা জানান, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি পরিবর্তনশীল প্রবাহ। এটি কিছু সময় কমতে পারে আবার বাড়তেও পারে। তবে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে, ফলে রিজার্ভ আর কমবে না।

