সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ২০০২ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় ৩টি মামলার মধ্যে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় বিএনপির সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৪৪ জনের ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) সাতক্ষীরার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক বিশ্বনাথ মণ্ডল সকাল ১০টায় এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ড প্রাপ্তদের মধ্যে হাবিুল ইসলাম হাবিব, আব্দুল কাদের বাচ্চু, রনজুকে যাবজ্জীবন এবং বিস্ফোরক আইনের মামলায় হাবিুল ইসলাম হাবিব, আব্দুল কাদের বাচ্চু, রনজু ও রিপন নামের চার আমামীকে অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অন্য দুটি মামলায় বাকী ৪৪ জন আসামিকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আলোচিত এই মামলায় মোট ৫০ জন আসামিদের মধ্যে ৩৫ জন আদালতে হাজির ছিলেন রায় ঘোষণার সময়। ১৩ আসামি পলাতক রয়েছে। ২ জন মারা গিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে মামলা পরিচালনা করেন সাতক্ষীরা জজ আদালতের পিপি অ্যাড. আব্দুল লতিফ, পিপি অ্যাড. শম্ভুনাথ সিংহ, অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু, হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যা. মোহাম্মদ হোসেন প্রমsখ।
অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন, ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলাম, অ্যাড. শাহানারা আক্তার বকুল, অ্যাড. আব্দুল মজিদ প্রমুখ।
সাতক্ষীরা জজ আদালতের পিপি অ্যাড. আব্দুল লতিফ জানান, এই মামলায় ২৫ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য, ঘটনার পারিপার্শিকতা ও অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আদালত এ রায় দিয়েছেন।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে যান শেখ হাসিনা। সেখান থেকে যশোরে ফেরার পথে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার উপরে আড় করে দিয়ে তার গাড়িবহরে হামলা চালায়। হামলায় তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান ও সাংবাদিকসহ দলীয় অনেক নেতাকর্মী আহত হন।
এ ঘটনায় দায়েরকৃত হামলার মামলায় ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তালা-কলারোয়ার বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ অন্যান্য আসামিদের চার থেকে ১০ বছর মেয়াদে সাজা প্রদান করেন সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবির। আজ এই মামলার অস্ত্র ও বিস্ফোরণ মামলায় রায় ঘোষণা করা হলো।

