কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, আগে টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া ছিল গ্রাম। এখন এ গ্রাম আর গ্রাম নেই। এটি এখন শহর হয়েছে। শেখ হাসিনা আপনাদের শহর বানিয়ে দিয়েছেন। দেশ দিয়েছেন একজন, আরেকজন আপনাদের মুক্তি দিয়েছেন।
জনসভার মঞ্চে উপস্থিত হয়ে শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সোয়া ১টার দিকে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
গোপালগঞ্জবাসীকে উদ্দেশ করে সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, চেহারা সুরত এখন দেখি খুব ভালো। তখন স্যান্ডেল পরা লোক খুব কম দেখেছি। এখন প্রত্যেকের পায়ে জুতা। প্রত্যেকে সুন্দর সুন্দর কাপড় পরছেন। মহিলারা শহরের নারীদের মতো ড্রেস পরে এসেছেন। এ পরিবর্তনের রূপকার বঙ্গবন্ধুকন্যা।
তিনি বলেন, করোনা মহামারিতে অনেক মানুষ চলে গেছেন। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। জিনিসপত্রের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে উপরে উঠেছে। আমাদের দোষ নেই, কিন্তু মূল্য দিচ্ছি আমরা। বড় বড় শক্তিগুলো নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যে অবস্থা সৃষ্টি করেছে…। বেশি দামে আমদানি করে আজ কম দামে বিক্রি করছেন শেখ হাসিনা।
এ সময় এলাকার সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভয় পাবেন না। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এটা মাইনরিটি অধ্যুষিত এলাকা। আমি আশ্বস্ত করছি, শেখ হাসিনা যতদিন আছেন, আপনাদের আপনজন এর চেয়ে বেশি আর কেউ নেই। আপনাদের যা যা অধিকার, শেখ হাসিনা থাকলে সব হবে। কারও কথায় প্রলুব্ধ হবেন না। ওদের কথা শুনবেন না, যারা গোপালগঞ্জকে বলে গোপালী।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এর আগে আজ শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে কোটালীপাড়ার তালিমপুর তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভার মঞ্চে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে জনসভাস্থল মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে দলের প্রতীক নৌকার আদলে তৈরি করা হয়েছে জনসভার মঞ্চ। এ জনসভায় প্রায় ২০ লাখ মানুষের সমাগম হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন নেতাকর্মীরা। জনসভাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হয়েছে পুরো জেলা।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে কোটালীপাড়া উপজেলায় সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে জনসভাস্থল। স্থানীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে কোটালীপাড়া-ভাঙ্গারহাট রোডের বিভিন্ন স্থানে তৈরি করা হয়েছে তোরণ। নেতাকর্মীদের মধ্যে দারুণ উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

