যশোর প্রতিনিধি
ঢাকা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলা প্রথম পত্রের বিতর্কিত প্রশ্নপত্রের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে যশোর বোর্ড। প্রশ্ন প্রণয়নকারী ও মডারেটর পাঁচ শিক্ষকই যশোর বোর্ডের হওয়ায় মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) এই কমিটি গঠন করা হয়।
রবিবার ওই পরীক্ষার পর থেকে সামাজিক মাধ্যমসহ সব স্থানেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
যশোর শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের প্রশ্নপত্রের একটি প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ওই প্রশ্নের উদ্দীপক (সৃজনশীল প্রশ্নের একটি অংশ) হিসেবে এমন বিষয়কে বেছে নেওয়া হয়েছে, যা খুবই সংবেদনশীল। এটি নিয়ে ফেসবুকেও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। বলা হচ্ছে এতে সাম্প্রদায়িক উসকানি রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা বোর্ড কর্তৃপক্ষ প্রশ্নপত্রের প্রণয়নকারী ও মডারেটর চিহ্নিতের উদ্যোগ নেয়। মঙ্গলবার তারা প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী শিক্ষক এবং মডারেটর শিক্ষকদের শনাক্ত করে যশোর শিক্ষাবোর্ডকে জানায়।
তারা হলেন প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ডা. সাইফুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার পাল। চার মডারেটর শিক্ষক হলেন নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তাজউদ্দিন শাওন, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান, নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের সহকারী অধ্যাপক শ্যামল কুমার ঘোষ ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডকে মঙ্গলবার বিষয়টি অবহিত করে ঢাকা বোর্ড। এরপর যশোর বোর্ড ঘটনা তদন্তের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। বোর্ডের পক্ষ থেকে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক একেএম রব্বানীকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, বিদ্যালয় পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম ও উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক
মদন মোহন দাস। তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোর্ডের সচিব প্রফেসর মো. আব্দুল খালেক সরকার।
যশোর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র জানিয়েছেন, এমন প্রশ্ন করার কোনো সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জাগো/আরএইচএম

