মুলায় সয়লাব দেশের বৃহত্তম সবজির মোকাম

আরো পড়ুন

দেশের বৃহত্তর সবজির মোকাম যশোরের সাতমাইল বারীনগর সবজির পাইকারী হাট এখন আগাম শীতকালীন সবজিতে ভরপুর। এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে এ জেলায়। এর মধ্যে মুলার ফলন হয়েছে নজরকাড়া পরিমাণ। তবে ন্যায্য মূল্য নিয়ে কৃষক ও পাইকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে নানা অভিযোগ। কৃষকেরা বলছেন ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে লাভের পরিমাণও সীমিত। অন্যদিকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন জ্বালানী তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিতে বেড়েছে পরিবহন খরচ এবং কৃষি উৎপাদন খরচ ফলে কৃষক এবং ব্যবসায়ী কেউই লাভের মুখ চোখে দেখতে পারছেন না।

হৈবতপুর ইউনিয়নের বারীনগর গ্রামের কৃষক সোলাইমান হোসেন বলেন, ‘এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন করচ বেশি হয়েছে। অন্যদিকে পরিবহন খারচও বেড়ে গিয়েছে। যে কারণে লাভের পরিমাণ সীমিত। তবে যাদের মাল ভালো তারা ভালো দামই পাঁচ্ছে।’

শুক্রবার সাতমাইল বারীনগর সবজির মোকাম ঘুরে দেখা যায়, শীতকালীন অনান্য সবজির তুলনায় মূলার পরিমাণ ছিলো নজর কাড়ার মতো। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই দেখা যায় মূলার গাদা। কৃষক ও ফাড়িয়ারা বলছেন এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় কৃষকেরা একই জমিতে পর পর তিনবার মূলার আবাদ করেছে ফলে ফলনও হয়েছে ব্যাপক। অনান্য জেলায় মূলার ফলন খারাপ হওয়ায় যশোর থেকে সরবরাহ বেড়েছে দ্বিগুন। পদ্মা ও মধুমতি সেতুর কারণে দ্রুত সময়ে রাজধানী, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতে সবজি পৌঁছে যাচ্ছে। এদিকে মোকামের পাইকারী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান, কাঁচামাল নিয়ে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে সড়কে প্রশাসন এবং বিভিন্ন সিন্ডিকেটের দ্বারা হয়রানির শিকার হতে হয়।

মোকামের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মোবারক আলী বলেন, ‘আগাম শীতকালীন সবজির ফলন ভালো হলেও জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বিপণন, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছি। ফলে কৃষক এবং ব্যবসায়ী কারোরই প্রত্যাশা অনুযায়ী লাভ হচ্ছে না।’

দেশের বৃহৎ সবজি ব্যবসায়ী নিউ সীতাকুণ্ড সবজি ভান্ডারের সত্ত্বাধিকারী জানে আলম জুনু বলেন, এ বছর সব রকম সবজির ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু ফলন ভালো হলেও যে পরিমাণে লাভ হবার কথা ছিলো সে পরিমাণ লাভ হচ্ছে না। মুলার ফলনের পরিমাণ বেশি এটা নিয়ে কৃষকরা একটু আশা দেখছেন।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘প্রতিনিয়ত সড়কে এ সব কাঁচামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের কাগজপত্র চেকিংয়ের নামে নানা হয়রানি এবং সড়কে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের চাঁদাবাজি এবং শিকার হতে হয়।

মোকাম কতৃপক্ষরা জানান, প্রতিদিন এ সবজির মোকাম থেকে প্রায় ৪০-৬০ ট্রাক সবজি দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ২০-৩০ ট্রাকই যাচ্ছে শুধু মাত্র মুলার চালান। এ হাটে মুলা কেজি প্রতি পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা। এছাড়া বেগুন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, শিম ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি, বাঁধাকপি ২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর আগে গত বছর এ জেলায় মুলার ফলন ভালো হওয়া সত্বেও এক টাকা কেজি দরে মুলা বিক্রি হওয়ায় কৃষকেরা মুলা বিক্রি না করে মহাসড়কের পাশে ফেলে দিয়ে গিয়েছিল।

সাতমাইল বারীনগর সবজির মোকামের ইজারাদার, হৈবতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুর এবং মধুমতি সেতুর কারণে যশোরের উৎপাদিত সবজি খুব দ্রুত সময়ে ঢাকা চট্রগ্রাম সহ বিভিন্ন জেলায় পৌছে যাচ্ছে। তবে কৃষিখাতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে জ্বালানী তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যাবসায়ীদের বহন খরচ বেড়েছে। যে কারণে ব্যবসায়ী এবং কৃষক উভয়েই কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারছেন না।

এখন পর্যন্ত জেলায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে এবং আবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার হেক্টর। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী কৃষি বিভাগও।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ