চৌগাছায় বৃষ্টির পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

আরো পড়ুন

জাহিদ হাসান সোহান, চৌগাছা: যশোরের চৌগাছায় দীর্ঘ বৃষ্টিতে, বোরো ধানকে কেন্দ্র করে কৃষকের স্বপ্ন মাঠে মারা যাওয়ার উপক্রম। কৃষকের রক্ত পানিকরেমাঠে কেটে রাখা ধান হাবুডুবু খাচ্ছে বৃষ্টির পানিতে।

ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে গত ৯ মে (সোমবার) বেলা ১১টা থেকে চৌগাছা উপজেলায় একনাগাড়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। গোটা উপজেলা জুড়ে ঝুম বৃষ্টিতে মাঠে কেটে রাখা ধানের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে পানির স্রোত। মাঠে যেন দেখা যাচ্ছে, কৃষকদের সর্বশান্ত হওয়ার দৃশ্য।

উপজেলার পাশাপোল গ্রামের কৃষক সোহাগ হোসেন বলেন, এগারো বিঘা ধান চাষ করেছি। ধান কাটার জন্য শ্রমিক না পাওয়ায় কাটতে পারিনি। ঠাকুরগাঁও থেকে শ্রমিক এসেছে সোমবার সকালে। ধান কাটা শুরু করতেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

পানির নিচে ধান২

তিনি আরো বলেন, শুরুতে কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং এখন বৃষ্টিতে আমরা চাষীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে না পেরে এখন বৃষ্টিতে ভিজে আমাদের আর অবশিষ্ট কিছুই থাকলো না।

গরীবপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রবিবার রাতে দুই বিঘা খেতের ধান বেঁধেছিলাম । এখন সেই ধানের ওপর দিয়ে পানির স্রোত যাচ্ছে। সোমবার সকাল থেকেই মুশুলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। জমিতে গাড়ি গেলেও ধান ভর্তি গাড়ি মাঠ থেকে রাস্তা পর্যন্ত নিয়ে আসা কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। তাছাড়া, সোমবার থেকে যে বৃষ্টি শুরূ হয়েছে তাতে উপজেলার কমবেশি সকল কৃষকেরই ধানের ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি এভাবে টানা দু’তিনদিন চললে কৃষকের স্বপ্ন মাঠেই মারা যাবে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের টানা বর্ষণে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চৌগাছায় বোরো ধান চাষে প্রায় একমাস পিছিয়ে যায়। ব্যপক ক্ষতি হয়, পেয়াজ, আলুসহ বিভিন্ন সবজির। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা উপজেলায় লক্ষমাত্রার চেয়ে প্রায় ১ হাজার ১৫০ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো ধান চাষ করেন। ধানের ফলনও হয়েছিলো বাম্পার। তবে হঠাৎ এই বৃষ্টিতে কৃষকের সেই স্বপ্ন এখন বৃষ্টির পানিতে ভাসছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো চাষের লক্ষমাত্রা ছিলো ১৭ হাজার ৫০০ হেক্টর। তবে কৃষকরা ১৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ধানের বাম্পার ফলনও হয়েছিলো। সারাদেশে গড়ে হেক্টর প্রতি ৫.৮২ মেট্রিকটন ধান উৎপদন হলেই বাম্পার ফলন ধরা হয়। সে অনুপাতে চৌগাছায় হেক্টর প্রতি ৬ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হওয়ার আশা করছিলেন কৃষি কর্মকর্তারা। এখন বৃষ্টিতে ৫.৮২ মেট্রিকটন ধান উৎপদনের লক্ষঅর্জনও সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন কৃষকরা।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস বলেন, অসময়ের বৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষতি তো হবেই। তবে বৃষ্টি আর না হলে কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ কমবে।

জাগো/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ