ডেস্ক রিপোর্ট: পাবনার সুজানগরে ইট ভাটার আগুনের গ্যাসের তাপে পুড়ে গেছে কৃষকের শতাধিক বিঘা জমির ধান। এ ঘটনায় রবিবার (১৭ এপ্রিল) উপযুক্ত ক্ষতিপূরণসহ ইটভাটা বন্ধের দাবিতে স্থানীয় মাঠে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করাসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, উপজেলা হাটখালী গ্রামটি ধান উৎপাদনে প্রসিদ্ধ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের আয়ের মূল চালিকা শক্তি কৃষির বিভিন্ন ফসল। কিন্তু এলাকাবাসীর বাধা উপেক্ষা করে গ্রামের ফসলি জমির ওপর গড়ে তোলা হয় একতা ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইটভাটার কাছে কয়েক একর জমির ধান সাদা রং ধারণ করেছে। পাশাপাশি পুড়েও গেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে সব পেকে গেছে। কিন্তু কাছে গেলে বোঝা যায় সব চিটা। শুধু তা-ই নয়, সবজিসহ অন্যান্য ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। উঠতি ফসলের এ অবস্থায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, উপজেলার হাটখালী গ্রাম ধান উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ। গ্রামের বেশির ভাগ মানুষের আয়ের মূল চলনশক্তি জমিতে উৎপাদিত বিভিন্ন ফসল। কিন্তু এলাকাবাসীর বাধা উপেক্ষা করে গ্রামের ফসলি জমির ওপর গড়ে তোলা হয় ‘একতা ব্রিকস’ নামে একটি ইটভাটা। পরে বদল করে রাখা হয় ‘নিদি ব্রিকস’ নামে। ওই ইটভাটাসহ উপজেলার বেশির ভাগ ইটভাটারই লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। কাগজপত্র না থাকলেও ইট পোড়ানো হয় ওই সব ভাটায়।
হাটখালী গ্রামের কৃষক বকুল শেখ কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিন বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেন তিনি। এতে তার খরচ পড়েছে প্রায় ৩৪ হাজার টাকা। কিছুদিনের মধ্যে ধান ঘরে তোলা যেত। এরই মধ্যে নিদি ইটভাটার আগুনের তাপে পুড়ে গেছে তার জমির ফসল। ধান ঘরে না উঠলে ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা, পরিবারের খাদ্যের জোগান নিয়েও শঙ্কায় আছেন তিনি।
একই গ্রামের কৃষক লোকমান শেখ ও মহন উদ্দিন জানান, ফসলি জমির ওপর ওই ভাটা গড়ে ওঠার শুরু থেকে স্থানীয় কৃষকরা প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু তাদের কথা শোনা হয়নি। অনেক বাধার পরও অদৃশ্য কারণে এ ভাটাসহ স্থানীয় কয়েকটি ভাটায় অবৈধভাবে পোড়ানো হয় ইট। এরই মাঝে নিদি ইটভাটার পাশে তাদের মতো আরও অনেক কৃষকের শতাধিক বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, গত বছর তারা বিঘাপ্রতি প্রায় ২১ মণ হারে ধান পেয়েছিলেন। এ বছর উঠতি ধান চিটা হয়ে যাওয়ায় পরিবারের খাদ্য নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ সময় উপযুক্ত ক্ষতিপূরণসহ ইটভাটা বন্ধের জোর দাবি জানান তারা।
কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ইটভাটা মালিক শাহজাহান হোসেন জানান, ইটভাটার চেম্বার বসে যাওয়ায় গরম গ্যাস বের হয়ে গত শনিবার কিছু ধানক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে ক্ষতিপূরণ দিতে শিগগিরই কৃষকদের সঙ্গে বসা হবে। তবে ভাটার বৈধ কাগজপত্র ও ইট পোড়াতে জেলা প্রশাসনের অনুমতিপত্র রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাফিউল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, ইটভাটার চুল্লি থেকে বের হওয়া গ্যাসের তাপের কারণে কয়েক একর জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে।
সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রওশন আলী জানান, এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাগো/এমআই

