লক্ষ্মীপুরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

আরো পড়ুন

ডেস্ক রিপোর্ট: লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে স্ত্রী মমতাজ বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী বশির মিস্ত্রিকে (৬০) আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার এক হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়। আজ বুধবার (২৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।

জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, স্ত্রী হত্যার ঘটনায় আদালতে বশির দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। রায়ের সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত বশির রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের দক্ষিণ টুমচর (আদর্শ গ্রাম) গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

এজাহার সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে নোয়াখালী জেলার চরজব্বার ইউনিয়নের চরপানা উল্যা গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে মমতাজকে বশির বিয়ে করেন। এটি বশিরের দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। প্রথম সংসারে তার দুই ছেলে ও চার মেয়ে। বশির-মমতাজের সংসারেও হোসেন আহম্মদ ও আপন নামে দুই ছেলে রয়েছে।

বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে মমতাজকে বশির মারধর করতেন। ঘটনাগুলো মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিকার সালিশ করা হয়। এরপরও বিভিন্ন সময় মমতাজ পরিবারের লোকজনকে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করতেন। পারিবারিক কলহের জের ধরেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে মমতাজকে বশির ঘর থেকে ডেকে বাড়ির অদূরে সয়াবিন ক্ষেতে নিয়ে যান। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করেন।

পরে বশির সেখান থেকে স্থানীয় টাংকি বাজারে যান। সেখান থেকে বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে খোঁজার নাটক করে। নিজেই সয়াবিন ক্ষেতে মরদেহ খুঁজে প্রচার করেন কে বা কারা মমতাজকে হত্যা করেছেন। কিন্তু ঘটনাটি সন্দেহজনক হওয়ায় স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে পুলিশ তাকে থানা হেফাজতে নেয়। পরদিন মমতাজের ভাই মো. জসিম বাদী হয়ে বশির ও অজ্ঞাত ৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

থানা পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১৪ জানুয়ারি রামগতি থানা পুলিশ আদালতে বশিরের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি ও ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।

জাগো/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ