যশোরে ঈদের নামাজ নিয়ে সংঘর্ষ: বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

আরো পড়ুন

যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের সরুইডাঙ্গা গ্রামে ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে এলাকায় থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজ কোথায় আদায় করা হবে তা নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। এক পর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিতরা গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করেন। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা স্থানীয় সরুইডাঙ্গা মসজিদে নামাজ পড়েন। নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নেয়।
অভিযোগের বিবরণ
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ বিশ্বাস এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখিত উল্লেখযোগ্য তথ্যগুলো হলো:
* হামলার ধরণ: নামাজ শেষে ফেরার পথে সিরাজের বাড়ির সামনে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা, রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
* গুরুতর আহত: হামলায় মাসুদের ভাই ওহিদুজ্জামান গুরুতর আহত হন। মাসুদের দাবি, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
* ছিনতাইয়ের অভিযোগ: হামলাকারীরা মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তির মোবাইল এবং মাসুদের কাছ থেকে নগদ ২১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
* অভিযুক্তরা: বাহাদুরপুর গ্রামের আনিছুর রহমান, আবু তালেব বিশ্বাস, আসাদুজ্জামান (ছক্কু), সিদ্দিক ও তার ছেলে তারেকসহ মোট ১১ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

সদর উপজেলার শ্রমিক দলের অর্থসম্পাদক বিপ্লব আহমেদ অভিযোগ করেছেন যে, অভিযুক্ত সিদ্দিক বাহাদুরপুর এলাকা থেকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে এই হামলা চালিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে এবং একজন আক্রমণকারী (সাকিব) গণপিটুনির শিকার হয়ে হাসপাতালে ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে।

অন্যদিকে, আহত সাকিব বর্তমানে যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার দাবি—ঈদের নামাজ শেষে ফেরার পথে সিরাজ ও তার তিন ছেলে (বিপ্লব, সুমন ও মাসুদ) সহ বেশ কয়েকজন তার ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা ও ইছালী ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আনিছুর রহমান জানান:
* বাজার কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ছিল।
* ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে সেই পুরনো বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়।
* পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ