বেনাপোল প্রতিনিধি: ভারতের চেন্নাইয়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৩৩ জন বাংলাদেশি নারী, পুরুষ ও শিশু। রোববার বিকেল ৫টায় ভারতের হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (আইসিপি) হয়ে তারা বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে পৌঁছান।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বাড়ি পাবনা, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, বাগেরহাট, কুমিল্লা ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর তথ্যমতে, দালাল ও অনলাইন প্রতারকদের মাধ্যমে ভালো কাজের আশায় এরা অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছিলেন। চেন্নাই পুলিশ তাদের আটক করে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে মামলা দেয়। এরপর এক থেকে চার বছর পর্যন্ত তারা সেখানে কারাভোগ করেন এবং পরবর্তীতে সেদেশের শেল্টার হোমে ছিলেন।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, ভারত সরকারের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন এবং চেন্নাইস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের বিশেষ কূটনৈতিক ও আইনি প্রচেষ্টায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার-এর ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর শফিকুল ইসলাম জানান, দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত প্রক্রিয়ায় এই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছে। সংস্থাটি বর্তমানে এসব নাগরিকদের আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনে কাজ করছে।
বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান:> “ফেরত আসা বাংলাদেশিরা বর্তমানে থানায় আমাদের হেফাজতে রয়েছেন। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”
অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রা রোধে জনসচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

