নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় নিজ ঘর থেকে শিকল দিয়ে পা বাঁধা অবস্থায় রিতা বেগম (৩৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে এড়েন্দা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রিতা ওই গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় রিতার মরদেহ ঝুলতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, উদ্ধারের সময়ও রিতার ডান পা একটি শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল।
নিহতের শাশুড়ি বুলিনা বেগমের দাবি, রিতা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। এই কারণেই তাকে একটি আলাদা ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। তবে নিহতের স্বামী রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) থাকায় তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ফলে রিতার মৃত্যু বা তাকে শিকলবন্দি করে রাখার বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পা শিকলে বাঁধা থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
> “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।” — ওসি, লোহাগড়া থানা।
>
এই রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মানসিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে কাউকে শিকলবন্দি করে রাখা আইনত দণ্ডনীয় কি না, সে বিষয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

