নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার মঙ্গলবাড়ী বাজারে খাসির মাংসের নামে কুকুরের মাংস বিক্রির এক ন্যাক্কারজনক চেষ্টার ঘটনা ফাঁস হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসা দুই মাংস বিক্রেতার এমন কর্মকাণ্ডে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযুক্তরা হলেন—স্থানীয় মাংস বিক্রেতা দুলু ও তার সহযোগী এনতাজ। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে জঙ্গল থেকে কুকুর জবাই করা অবস্থায় তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুলু দীর্ঘদিন ধরে মঙ্গলবাড়ী বাজারে মাংসের ব্যবসা করে আসছেন। তিনি ক্রেতাদের বলতেন, তার কাছে থাকা মাংসগুলো ‘উন্নত জাতের বিদেশি খাসি’র। উন্নত জাতের দোহাই দিয়ে তিনি সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে তুলনামূলক চড়া দাম নিতেন। মানুষও সরল বিশ্বাসে তার কাছ থেকে নিয়মিত মাংস কিনতেন।
রোববার ভোরে দুলু বাড়ির পাশের একটি কুকুর ধরে কৌশলে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে তিনি কুকুরটি জবাই করে চামড়া ছাড়ানোর কাজ করছিলেন। এ সময় কয়েকজন প্রতিবেশী ওই পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দৃশ্যটি দেখে ফেলেন এবং চিৎকার শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে।
কুকুর জবাইয়ের বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর দুলু ও তার সহযোগী এনতাজ গ্রামবাসীর তোপের মুখে পড়ার ভয়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পায়নি।
এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ঘৃণা কাজ করছে। জাহাঙ্গীর আলম নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
> “এলাকার অনেকেই এই চক্রের কাছ থেকে দীর্ঘদিন মাংস কিনেছেন। এখন সবার মনে প্রশ্ন জাগছে, এর আগেও তারা কতবার এমন ঘৃণ্য কাজ করেছে। আমরা এই প্রতারক চক্রের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
>
এলাকার সচেতন মহলের দাবি, এই ধরনের প্রতারণা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। পলাতক দুই বিক্রেতাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য তারা স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় পুলিশি তদন্ত বা কোনো আইনি পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি। তবে গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে অভিযুক্তদের সামাজিকভাবে বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছেন।

