রাজশাহীতে এশার নামাজে যাওয়ার পথে ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা: কাঠগড়ায় বিএনপি নেতা ও কর্মীরা

আরো পড়ুন

রাজশাহী মহানগরীর খোঁজাপুর এলাকায় পূর্ববিরোধ ও রাজনৈতিক আধিপত্যের জেরে মো. মোস্তফা (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ‘নির্বাচনের পর দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে আসছিল স্থানীয় বিএনপি নেতা ও কর্মীরা এবং সেই ঘোষণা অনুযায়ীই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে এশার নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে খোঁজাপুর গোরস্তানের পাশের রাস্তায় এই বর্বরোচিত হামলা ঘটে। নিহত মোস্তফা স্থানীয় একটি ময়দা মিলের কর্মচারী ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ‘আগে মাইরবো, তারপর বিচার’
নিহতের ভাতিজি শাকিলা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় এক বছর আগে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় উকিল ও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তাদের বিরোধ শুরু হয়। সে সময় মোস্তফার মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। শাকিলা বলেন,
> “ওরা বলেছিল আগে আমরা মাইরবো, তারপর মীমাংসা হবি। ভোটের আগে বলেছিল একটা লাশ ফেলে তারপর বিচার করব। নির্বাচন হওয়ার পর আমাদের শায়েস্তা করার হুমকি দিয়েছিল তারা।”
>

রোববার সকালে নিহতের স্ত্রী নাদেরা বেগম বাদী হয়ে মতিহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন:
* মো. হাসিবুল মোল্লা: ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।
* মো. উকিল: স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত।
* শিহাবুল ইসলাম: বিএনপির সক্রিয় কর্মী।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পরিবারসহ আত্মগোপনে রয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত উকিলকে নির্বাচনের পর রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনুকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে।
নিহত মোস্তফার তিন মেয়ের মধ্যে মেজো মেয়ে আড়াই মাস আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন দিশেহারা পরিবারটি। নিহতের স্ত্রী নাদেরা বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, “আমার স্বামী নিয়মিত নামাজ পড়তেন। অজু করে নামাজে যাওয়ার সময় কেন তাকে এভাবে মারা হলো? আমি এই খুনিদের ফাঁসি চাই।”

রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, আগের একটি মামলার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নেমেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—পূর্বশত্রুতা আর রাজনীতির প্রতিহিংসার বলি কেন হতে হলো একজন সাধারণ শ্রমজীবীকে?।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ