ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর রাজধানীসহ সারাদেশে পুনরায় সচল হতে শুরু করেছে গণপরিবহন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাত থেকে চলাচলের ওপর থাকা বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় আজ সকাল থেকেই রাস্তাঘাটে বাসের উপস্থিতি বাড়ছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে সারাদেশে সব ধরনের সাধারণ যানবাহন ও গণপরিবহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে মধ্যরাতে এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়।
রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, মধ্যরাত থেকেই সীমিত পরিসরে যান চলাচল শুরু হয়েছে। আজ সকাল থেকে দূরপাল্লার বাসসহ অভ্যন্তরীণ রুটের যানবাহনগুলোও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
নির্বাচনকালীন এই কয়েক দিনে পরিবহন খাতে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছিল। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুম জানিয়েছেন, সরাসরি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও প্রশাসনিক প্রয়োজনে প্রচুর বাস রিকুইজিশন (অধিগ্রহণ) করায় স্বাভাবিক সেবা ব্যাহত হয়েছে।
তার দেওয়া তথ্যানুসারে:
* নির্বাচন ঘিরে পরিবহন খাতে প্রায় ৭০ থেকে ১০০ কোটি টাকার আর্থিক লোকসান হয়েছে।
* শ্রমিক ও মালিকপক্ষ উভয়ই এই কয়েক দিনের অচলাবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
* ভোটের তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।
* সময়: সকাল ৭:৩০ থেকে বিকাল ৪:৩০ পর্যন্ত।
* নিরাপত্তা: পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাবসহ প্রায় ১০ লাখ সদস্য মোতায়েন ছিল।
* যানবাহন চলাচল: রিকশা ও ব্যক্তিগত কিছু যান সীমিত পরিসরে চললেও বাস ও ভারী যানবাহন বন্ধ ছিল।
পরিবহন মালিকরা আশা করছেন, আজ বিকেলের মধ্যে সারা দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি দূর হবে।

