এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের শুভ সূচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) শপথ নিতে যাচ্ছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা (এমপি)। জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়।
আজ সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ গ্রহণ কক্ষে নবনির্বাচিত এমপিদের এই শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বিগত দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, এবারের শপথে এক ব্যতিক্রমী মাত্রা যোগ করা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা মোট ২ দফায় শপথ গ্রহণ করবেন:
* প্রথম দফা: সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক শপথ।
* দ্বিতীয় দফা: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে ‘রাষ্ট্র সংস্কারের বিশেষ অঙ্গীকার’ নিয়ে জনসেবার শপথ।
এমপিদের শপথ শেষ হওয়ার পর বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ। প্রথা ভেঙে এবারই প্রথম বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই আয়োজন করা হয়েছে। বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। একই সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেবেন।
প্রস্তুত সংসদ ভবন ও নিরাপত্তা
ঐতিহাসিক এই শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ ও অতিথি গ্যালারি। দেশি-বিদেশি কয়েক হাজার আমন্ত্রিত অতিথি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শপথ গ্রহণ শেষে এমপিরা নির্ধারিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করবেন।
শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর ও সংসদ ভবন সংলগ্ন বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ডিএমপির বিশেষ ট্রাফিক ডাইভারশন পরিকল্পনা কার্যকর থাকবে।

