রমজানের আগেই যশোরের বাজারে ‘আগুন’: সিন্ডিকেটের কারসাজিতে দিশেহারা সাধারণ ক্রেতা

আরো পড়ুন

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে এখনো কিছুদিন বাকি, কিন্তু এরই মধ্যে যশোরের নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে মাছ-মাংস ও মুদি দোকান— সর্বত্রই যেন চড়া দামের দাপট। অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে যশোরের সাধারণ ক্রেতারা এখন চরম বিপাকে।

সরেজমিনে যশোরের বড় বাজারসহ বিভিন্ন উপশহর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। বিশেষ করে কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, টমেটো ও বেগুনের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
* বিক্রেতাদের দাবি: সরবরাহ কম এবং সামনে রমজান হওয়ায় চাহিদা বেড়েছে।
* ক্রেতাদের অভিযোগ: এটি সম্পূর্ণ ‘কারসাজি’। প্রতিবছর রমজানকে পুঁজি করে সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়।
মাছ ও মাংসের বাজারে অস্বস্তি
ইফতার ও সেহরির বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে সব ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ২০-৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। একই চিত্র মাংসের বাজারেও। গরু ও খাসির মাংসের দাম মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে আসা এক ক্ষুব্ধ ক্রেতা বলেন, “আগে যে টাকায় এক কেজি মাংস কিনতাম, এখন সেই টাকায় আধা কেজি পাওয়াও দায়। উৎসব এলেই কি আমাদের পকেট কাটা হবে?”
মুদি ও ইফতার সামগ্রীতেও চড়া মূল্য
মুদি দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মশলাপাতি ও ভোজ্যতেলের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এছাড়া ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ কলার দামও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

রমজান সংযমের মাস হলেও যশোরের বাজারে এখন যেন ‘অসংযমের প্রতিযোগিতা’ চলছে। ভুক্তভোগী ক্রেতাদের দাবি, অসাধু ব্যবসায়ীদের এই মুনাফা লোটার উৎসব বন্ধ করতে দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার করা হোক। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না করলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ