হলফনামা বিশ্লেষণ : এমপি রণজিতের সম্পদ বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে, পিছিয়ে নেই স্ত্রী নিয়তীও

আরো পড়ুন

# ৪ লাখ টাকার স্থলে রণজিতের স্থাবর-অস্থাবর
সম্পদের পরিমাণ ছয় কোটি ৯৭ লাখ
# ৮৫ হাজার টাকার স্থলে নিয়তীর
বর্তমানে পৌনে তিন কোটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় সংসদ রণজিত কুমার রায় উল্লেখ করেছিলেন, স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তার স্ত্রী নিয়তী রানীর সম্পদের মূল্যে ৮৫ হাজার টাকা। দেড় দশক পরে এবারের হলফনামায় তিনিই উল্লেখ করেছেন, স্ত্রী নিয়তীর বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৭৩ লাখ ৭৫ হাজার ২৯৮ টাকা। একই সাথে স্ত্রীর কোন গাড়ি না থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ৫৫ লাখ টাকার একটি প্রাইভেট কার। স্ত্রীর বর্তমানে কোন আয় নেই। আগেও ছিল না। ২০০৮ সালে রণজিতের বার্ষিক আয় ছিলো এক লাখ ৬৭ হাজার টাকা; বর্তমানে তার আয় ৪২ লাখ ৮৫ হাজার ৭৮৩ টাকা। ২০০৮ সালে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের হলফনামায় তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছয় কোটি ৯৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৬৮ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এইচএসসি পাস রণজিতের আয়ের উৎস পারিতোষিক (উপহার), ব্যবসা, কৃষি ও ভাড়া আদায়। তিনি যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) টানা তিনবারের সংসদ সদস্য। এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত রণজিত রায়। টানা তিনবার সংসদ সদস্য থাকায় তার ভাগ্যবদল হয়েছে। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সঙ্গে তার স্ত্রী নিয়তী রানীও অর্জন করেছেন অঢেল সম্পদ। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা ২০০৮ ও ২০২৩ সালের হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।
হলফনাম বিশ্লেষণে আরো দেখা যায়, এমপি রণজিত কুমার রায় ২০০৮ সালে ৪ বিঘা কৃষি জমি পৈত্রিক সূত্রে পেলেও বর্তমানে ১২ বিঘা জমির মালিক স্ত্রীর নামে ২০০৮ সালে কোন জমি বা বাড়ি না থাকলেও বর্তমানে ৩টি বাড়ি রয়েছে। যার মূল্য হলফনামার তথ্য অনুযায়ী এক কোটি ৪৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা। একই সাথে বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট হিসেবে ৫০ লাখ টাকার উল্লেখ করেছেন। ২০০৮ সালে রণজিত কুমার রায়ের কাছে এক লাখ টাকা নগদ থাকলেও বতমানে এক কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। ২০০৮ সালে এমপির স্ত্রীর কাছে ৭০ হাজার টাকা নগদ ছিল। বর্তমানে তার স্ত্রীর কাছে ৫১ লাখ ১৬ হাজার ৮৪০ টাকা রয়েছে। পূর্বে ব্যাংকিং সঞ্চয় ডিপিএস হিসেবে কোন টাকা না থাকলেও বর্তমানে এমপি রণজিত রায় দম্পতির ২৭ লাখ ৩৮হাজার ৪৯২টাকা আছে। তার কোন দায় দেনা নেই। এছাড়া রনজিত রায় মাত্র এক লাখ টাকায় কিনেছেন ১২ বিঘা জমি। সে হিসাবে প্রতি বিঘা জমির মূল্য দাঁড়ায় সাড়ে ৮ হাজার টাকা। অবিশ^াস্ত হলেও এই তথ্য হলফনামাতে উল্লেখ করেছেন তিনি। স্ত্রী ও নিজের সম্পত্তির তথ্য উল্লেখ করলেও হলফনামায় এমপি রণজিত কুমার রায় তার সন্তানদের তথ্য উল্লেখ করেননি।
এই বিষয়ে বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খান বলেন, ‘হলফনামাতে যা উল্লেখ করেছেন রনজিত সব মিথ্যা। বাংলাদেশ ভারতে দুই দেশেই তার বাড়ি রয়েছে। এমনকি আমার ইউনিয়নে যত জমি কিনেছে তার দামই কোটি টাকা। এছাড়া তিন মেয়াদে তিনি সংসদ নির্বাচিত হওয়াতে কয়েক কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক নেতারা জানান, সাংসদ রণজিত রায়ের পছন্দের বাইরে গত ১৫ বছরে বাঘারপাড়া ও অভয়নগর উপজেলার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তিনি ও তার স্ত্রী নিয়তি রানী পর্যায়ক্রমে দুই উপজেলার অন্তত ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন গোটা সময় জুড়ে। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় একাধিকবার শিরোনাম হয়েছেন দুজনই। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, রণজিত সংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নিয়োগবাণিজ্যে পুনর্বাসিত করেছেন জামায়াত-বিএনপিদের। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত রাজাকারদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীকে নানাভাবে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যা নিয়ে উপজেলা নেতাকর্মীর মধ্যে সৃষ্টি হয় ক্ষোভ। ফলে দুই উপজেলা ও তৃণমূল নেতাকর্মীর সঙ্গে বিরোধ প্রকাশ্যে। ফলে এসব কারণে সমালোচিত রনজিতকে এ কারণে মনোনয়ন দেয়নি বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা।
বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী বলেন, ‘রণজিত এমপি হওয়ার পরে উপজেলার যত নিয়োগ হয়; চাকরি দিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের লোকজনদের। আমজাদ রাজাকারের পরিবারকে সমর্থন দিয়েছেন। নানা কাজে সমোলোচিত কারণে দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। ওনি তো জামাত বিএনপিদের পৃষ্টপোষক। তাদের ভোট নেওয়ার জন্য তিনি দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। দলের কোন নেতাকর্মীরা তার পিছনে নেই। দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন করলে রণজিতের জামানতও বাঁচবে না বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে এমপি রণজিত কুমার রায় বলেন, আমার আয় বর্হিভূত কোন সম্পদ নেই। আয়কর ফাইলের তথ্য অনুযায়ী হলফনামায় তথ্য দিয়েছি।

 

জেবি/জেএইচ

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ