যশোর জিলা স্কুলের লাইব্রেরি: নামমাত্র অস্তিত্ব

আরো পড়ুন

যশোর জিলা স্কুল, বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। স্কুলটির পাঠাগারটিও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই পাঠাগারটি বর্তমানে নামমাত্র অস্তিত্ব বহন করছে।

স্কুলের শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানে না যে তাদের স্কুলে একটি পাঠাগার আছে। বিশেষ করে নিচের ক্লাসের শিক্ষার্থীদের কাছে এই পাঠাগারের বিষয়টি একেবারে অজানা। ফলে একাডেমিক শিক্ষার গন্ডির মধ্যে আটকে থাকছে তাদের জ্ঞানের পরিধি।

করোনার মহামারির পর থেকে এই পাঠাগারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, লাইব্রেরির একটি রুটিন আছে। সেই অনুযায়ী খোলা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলছে, তারা কখনও এই পাঠাগারটি খোলা দেখেনি।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক শোয়াইব হোসেন বলেন, লাইব্রেরি পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক আছেন। তিনি ক্লাস নেয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব পালন করেন। লাইব্রেরি কখনো খোলা হয় না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দৈনন্দিন রুটিন মাফিক পাঠাগার খোলা হয়। সবসময় বন্ধ থাকে বিষয়টি তেমন নয়।

কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, স্কুলের শিক্ষক মিলনায়তনের পাশে একটি কক্ষে এই পাঠাগারটি অবস্থিত। কিন্তু কক্ষের বাইরে কোন সাইনবোর্ড বা মুদ্রিত অক্ষরে লেখা নেই যে সেটি একটি পাঠাগার। একটি টিনের পাতে লেখা আছে কক্ষ নং-১৪। ছিড়ে যাওয়া একটি প্যানাসাইনে লাইব্রেরিতে পড়ার নিয়মকানুন লেখা আছে। সেখানে টিফিন পিরিয়ডে পড়ার সময়সূচিও লেখা আছে। বর্ণনা করা আছে বই ইস্যু করার পদ্ধতি।

তবে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা সেখানে বসে পড়েও না। কোন বইও ইস্যু করে না। আবার অনেক জানেও না লাইব্রেরি বলে কিছু আছে।

স্কুলটি পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজরিয়াম বিশ্বাসের কাছে স্কুল লাইব্রেরি ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে জানায়, তাদের স্কুলে কোন লাইব্রেরি আছে সেটি তার জানা নেই। কখনো স্কুল লাইব্রেরি সে দেখেনি। তার চোখে পড়েনি।

মিনহাজুর রহমান নামে পঞ্চম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলে একটি লাইব্রেরি আছে বলে শুনেছে। কিন্তু সেটি ঠিক কোথায় সেটি তার জানা নেই।

এই পাঠাগারটি সঠিকভাবে পরিচালনা করা গেলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু বর্তমানে এই পাঠাগারটি নামমাত্র অস্তিত্ব বহন করছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের উচিত এই পাঠাগারটিকে সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করা।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ