যশোর:১ চার বারের জয়ের প্রত্যাশায় আফিল, মরিয়া লিটন

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক 
গত ১৫ বছর যশোর-১ (শার্শা) আসনের নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশব্যাপী উন্নয়নের ক্যারিশমায় এবারো নৌকার পালে সুবাতাস বইছে। তবে আসন নিজের দখলে নিতে মরিয়া আওয়ামীলীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে বিএনপি জোটের জামায়াত প্রার্থী পরাজিত হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে নির্বাচনে বিএনপি জোট অংশ না নেওয়ায় আবারো জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থীকে হারিয়ে তিন বারের জয়ের হ্যাটট্রিক করেন আওয়ামীলীগ। ২০২৪ সালের নির্বাচনে আবারো চারবারের এমপি হবার আশা করছে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রার্থী।

যশোরের শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে যশোর-১ আসন গঠিত। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এই আসনে অবস্থিত। এই নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৪ হাজার ৬শ‘ ৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭৬ জন। আর নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৭ হাজার ১১৬ জন।
এ আসনে এবারের নির্বাচনে তিন জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন, নৌকার প্রার্থী বর্তমান এমপি শেখ আফিল উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন ( ট্রাক প্রতীক) ও জাতীয় পর্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো: আক্তারুজ্জামান।

নাভারণ ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক ইব্রাহিম খলিল জানান, মূলত এ আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী হলেন, আওয়ামী লীগের শেখ আফিল উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম লিটন। এখানে রয়েছে আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক। তার পরও ১১টি ইউনিয়ন ও প্রায় ওয়ার্ডের সভাপতি-সম্পাদক ও পৌরসভা ও ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি-সম্পাদকসহ আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রয়েছে আওয়ামীলীগের প্রার্থী শেখ আফিল উদ্দিনের আস্থাভাজন। সে সেক্ষেত্রে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আশরাফুল আলম লিটন পক্ষের হয়ে কাজ করছেন বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আহসান উল্লাহ। তিনি বলেন, শার্শার মানুষ লিটনকে ভোট দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। কেননা গত ১৫ বছরে শেখ আফিল উদ্দিনের অত্যাচার আর দম্ভে মানুষ ছিল অসহায়। তারা পরিবর্তন চাইছে। এজন্য ৭ জানুয়ারি তারা ভোট বিপ্লব ঘটাবে।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ আফিল উদ্দিন চারদলীয় জোটের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আজীজুর রহমানকে পরাজিত করে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয়বারের মতো এমপি হন তিনি। ২০০১ সালে আফিল উদ্দিন আওয়ামীলীগের থেকে নির্বাচন করে চারদলীয় জোটের বিএনপির আলী কদরের কাছে পরাজিত হন। ২০১৮ সালে বিএনপির মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে ২ লাখ ৬ হাজার ৪৬২ ভোটে পরাজিত করে তৃতীয় বারের মত নির্বাচিত হন আওয়ামীলীগের শেখ আফিল উদ্দিন। তিনি পেয়েছেলেন ২ লাখ ১১ হাজার ৪৪৩ ভোট। তৃপ্তি পেয়েছিলেন ৪ হাজার ৯৮১ ভোট। তাই এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও শক্তিশালী প্রাথী না থাকায় নৌকার প্রার্থী চায় আসনটি ধরে রাখতে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী চায় একটু ঝাকুনি দিতে।

জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক শক্তি তেমন না থাকায় তাদের নেতাকর্মীর সংখ্যাও নগন্য। অনেক ইউনিয়ন ওয়ােের্ড তাদের কমিটিও নেই। মুখচেনা যে কয়জন আছে তাদের নিয়ে ঘোরাঘুরি করছেন লাঙ্গলের প্রার্থী মো: আক্তারুজ্জামান। তাদের যে ভোট আছে সেটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারে কাছে আসবে না। তারপরও তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, গত ১৫ বছরে এলাকায় নজিরবিহীন উন্নয়ন করেছি। নিজ অর্থে রাস্তা, স্কুল-কলেজ নির্মাণ করেছি। শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে খাতা-কলম দিয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকার এ এলাকায় রাস্তা, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিদ্যুৎসহ অনেক কিছু দিয়েছে। এক সময়ের সেই ভূতুড়ে পল্লী এখন শহরে রূপান্তরিত হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে ছাত্র ছাত্রীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের সংবর্ধনা দিয়েছি। আমি জুটমিল স্থাপন করে প্রায় ১০ হাজার নর-নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি বিপ্লব ঘটেছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরপর ৩ বার নৌকার হাল ধরে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসমাপ্ত সোনার বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রুপান্তরিত করেছেন। সে সাথে বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। যার সফলতা ইতিমধ্যে আমরা ভোগ করা শুরু করেছি। এবারের নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের প্রতীক নৌকা মার্কায় বিজয়ী হতে পারলে স্মার্ট বাংলাদেশের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে আমাদের সন্তানদের উন্নত দেশের নাগরিক হিসেবে সম্মানিত করবে। এজন্য তিনি আবারও আওয়ামী লীগের প্রতীক, বাংলাদেশ স্বাধীনতার প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক, স্মার্ট বাংলাদেশের প্রতীক নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন ভোটারদের কাছে।

নৌকা মার্কার বিজয় নিশ্চিত করতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিশ্চিত করতে আমাদের সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে হবে। আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। যা শার্শার আপামর জনগন ৭ জানুয়ারি ব্যালেটের মাধ্যমে দেখিয়ে দিবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম লিটন বলেন, দীর্ঘদিন পর এই আসনে নৌকার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ট্রাক প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে ভোটাররা। তারা ভোট দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। কিন্তু তাদের মনে শঙ্কা কাজ করছে। আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। শার্শার মানুষ চায়না বোমাবাজি আর সন্ত্রাস, তারা চায় শান্তি। বিগত ১৫ বছর জনগণের ভোটে বর্তমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও তিনি এলাকার সমস্যার কথা বলতে সংসদে যাননি। তার ভোট চাওয়ার কোন অধিকার নেই। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এখন লোক দিয়ে পোস্টার ছিড়ছে।

তিনি বলেন, আমাদের যারা পোস্টার লাগাচ্ছে তাদের ভয় দেখাচ্ছে, বাড়ি বাড়ি যেয়ে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করছে। প্রয়োজনে কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। আজ জননেত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন করার জন্য। তাই আমরা নির্বাচন করছি। এবারের লড়াই হবে একই দলের অত্যাচারিদের সাথে নির্যাতিতদের লড়াই, এবারের লড়াই হচ্ছে ভোটের অধিকার আদায়ের লড়াই। এবারের লড়াই শার্শার মানুষকে মুক্ত করার লড়াই। এবারের লড়াই আওয়ামী পরিবারকে অত্যাচার-নির্যাতনকারীদের প্রতিহত করার লড়াই। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে আশা করছেন।

জেবি/জেএইচ 

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ