যশোরে ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে ক্ষতির আশংকায় রবিশস্য 

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক 

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে যশোরে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সারাদিন বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃহস্পবিার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৭০ মিলিমিটার। এতে করে বেশিরভাগ জমিতে জমেছে পানি। এখন চলছে রবি মৌসুম। মাঠে রয়েছে বোরো বীজতলা, আলু, গম, ডাল, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুন ও মরিচ। হঠাৎ বৃষ্টিপাতে ফসলে রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব বাড়ানোর পাশাপাশি সার্বিক উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশে ফসলের সবচেয়ে বড় মৌসুম রবি। বোরো ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, শীতকালীন সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ডাল ও তেলবীজ উৎপাদন হয় মৌসুমটিতে। শীতকালে কম বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা এসব ফসল উৎপাদনে বড় ভ‚মিকা রাখে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর প্রভাবজনিত কারণে চলতি রবি মৌসুমে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে ফসলের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী চলতি রবি মৌসুমে যশোরে বোরো বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৭২০ হেক্টর, ইতিমধ্যে অগ্রগতি হয়েছে এক হাজার ৬১০ হেক্টর। আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক হাজার ৫শ হেক্টর, আবাদ সমপন্ন হয়েছে ৭৫০ হেক্টর। গম আবাদের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক হাজার ৫শ হেক্টর, আবাদ হয়েছে এক হাজার ৫০ হেক্টর। মসুর ডাল আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার হেক্টর, অগ্রগতি হয়েছে এক হাজার ৮শ হেক্টর। সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ৯শ হেক্টর, অগ্রগতি সমপন্ন হয়েছে ৩০ হাজার ২৬৫ হেক্টর। পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক হাজার ৫৫০ হেক্টর, অগ্রগতি হয়েছে ৮৪৮ হেক্টর। রসুন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬শ হেক্টর, অগ্রগতি হয়েছে ৩৬১ হেক্টর। এবং মরিচ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬শ হেক্টর, ইতিমধ্যে অগ্রগতি সমপন্ন হয়েছে ৫৮৬ হেক্টর।

সদরের চুড়ামণকাটি গ্রামের মাহবুবর রহমান বলেন, তার ক্ষেতে সবজি ও কাঁচামরিচ আবাদ করা হয়েছে। গতকালের বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে গেছে। চেষ্টা করছি পানি সরানোর। ফসল নষ্ট হলে অনেক ক্ষতিদ হয়ে যাবে। ঝিকরগাছা উপজেলার মাটি কুমড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা বলেন, আমরা রসুন, মসুর ডাল ও পেঁয়াজ আবাদ করেছি। বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে গেছে। এতে করে আশংকা করছি ফসল অনেক নষ্ট হয়ে যাবে।

যশোর বিজ্ঞাণ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট এন্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ফসল উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। যশোরে অনেক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে পসলের ক্ষেতে পানি জমে গেছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ, রসুন ও কাঁচামরিচের ক্ষতি বেশি হবার আশংকরা রয়েছে। আমাদের দেশে আবহাওয়ার আগাম সতর্কতার ক্ষেত্রে সক্ষমতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন। যেন অঞ্চলভিত্তিক আলাদা পূর্ভাবাস দেয়া সম্ভব হয়। এছাড়া বিভিন্ন দুর্যোগের কারণে যেসব ফসলের ক্ষতি হচ্ছে সেসব কৃষককে সহায়তা দিতে হবে। সেটা ভর্তুকির মাধ্যমে হোক কিংবা বীমার মাধ্যমে। বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা দিতে হবে।

এব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গতকাল বেশ বৃষ্টিúাত হয়েছে। এখন রবি মৌসুম চলছে। বোরো বীজতলায় কোন ক্ষতি না হলেও অন্যান্য ফসলের ক্ষেতে পানি জমলে ক্ষতির আশংকা রয়েছে। এতে করে লক্ষ্যমাত্রার থেকে পিছিয়ে যেতে পারি উৎপাদনে। আমরা কৃষকদের ক্ষেত থেকে পানি সরিয়ে নিতে পরামর্শ দিচ্ছি।

 

জেবি/জেএইচ

 

 

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ