যশোরে ১শতাংশের নাম-স্বাক্ষরের গ্যাড়াকলে ছিটকে গেলেন ১১ স্বতন্ত্র প্রার্থী

আরো পড়ুন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬টি আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ৪৬ জন প্রার্থী। তবে যাচাই বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে ১৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন। আজ ররিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত যাচাই-বাছাই করে এসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবরাউল হাছান মজুমদার। বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ১১ জন। তারা সকলেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১ শতাংশের নাম-স্বাক্ষরের গ্যাড়াকড়ে বাদ পড়েছেন। আর বাকী ৭জন হলফনামা ও আয়কর তথ্যের গড়মিলে বাদ পড়েছেন। যদিও এসব প্রার্থীদের আপিলের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ঠরা।

যাচাই বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন, যশোর-১ (শার্শা) আসনে স্বতন্ত্র নাজমুল হাসান ও সোহরাব হোসেন, জাতীয় পার্টির আক্তারুজ্জামান। যশোর-২ (ঝিকরগাছা- চৌগাছা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ’র প্রার্থী শামছুল হক। যশোর-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান, তৃণমূল বিএনপির মো. কামরুজ্জামান, জাকের পার্টির মহিদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহিত কুমার নাথ ও শহিদুল ইসলাম মিলন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রার্থী শেখ নুরুজ্জামান। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সন্তোষ কুমার অধিকারী, যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আমজাদ হোসেন লাভলু, হুমায়ুন সুলতান, কামরুল হাসান বারী, জাকের পার্টির হাবিবুর রহমান, যশোর-৬ (কেশবপুর) স্বতন্ত্র আজিজুর ইসলাম ও হোসাইন মোহাম্মদ ইসলাম। বাদ পড়া ১৮ প্রার্থীদের মধ্যে ১১ জন আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা সবাই দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। আর বাকী ৭ জনের মধ্যে জাতীয় পার্টির ৩ জন, বিএনএফ, তৃর্ণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফতের ১ জন করে। বাদ পড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিজ সংসদীয় আসনের ১ শতাংশের নাম-স্বাক্ষরের ত্রুটি থাকাতে তাদের মনোনয়ন বাদ পড়েছে।

বাদ পড়া কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোটারদের স্বাক্ষর সংগ্রহে কেউ কেউ মাঠে কর্মী নামিয়েছিলেন। কেউ নিজে এবং অনুসারীদের পাঠিয়েছিলেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। স্বাক্ষর সংগ্রহ শেষে গত বৃহস্পতিবার শেষ দিনে তাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। এই স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে গিয়ে বেশির ভাগ প্রার্থীেই বেকায়দায় পড়েছিলেন। অনেক কষ্ট করে শেষমেষ ১ শতাংশের নাম-স্বাক্ষর ও ভোটারের মুঠোফোন নম্বরের তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিলেও যাচাই বাছাইয়ে কপাল পড়লো এসব ১১ স্বতন্ত্র প্রার্থীর। যদিও তারা আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের ১ শতাংশের নাম-স্বাক্ষর ও ভোটারের মুঠোফোন নম্বরের তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হয়। মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনেই তা নিশ্চিত করতে হয়। দল মনোনীত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা নেই।
যশোর-৫ আসনের মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থী আমজাদ হোসেন লাভলু বলেন, ‘এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর যাচাইয়ে ত্রুটি হওয়ায় আমার

মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এক শতাংশের ভোটারের তালিকা প্রস্তুত করা অনেক কঠিন কাজ। একটু এদিক ওদিক হলেই বাতিল হয়ে যায়। আমার কর্মীরা সেই তালিকা করেছিলো। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কয়েকজনের নাম ও মুঠোফোনে যোগাযোগ করে গড়মিল পাওয়াতে মনোনয়ন বাতিল করে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমি নির্বাচন কমিশনে আপিল করবো। যশোর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর যাচাইয়ে ত্রুটির কারণে । তিনি বলেন, ‘কর্মী দিয়ে তালিকা প্রস্তুত করেছিলাম। এর মধ্যে একজন বিদেশ থাকাতে এই তালিকায় নাম এসেছে। যাচাই বাছাইয়ে আমার মনোনয়ন বাতিল করেছে রিটানিং কর্মকর্তা।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আনিচুর রহমান বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া ১ শতাংশ ভোটারের নামের তালিকা স্বাক্ষরসহ মাঠপর্যায়ে যাচাই করা হয়েছিলো। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচন কর্মকর্তারা এসব যাচাইকালে তালিকায় উল্লেখিত কোনো ভোটার তা অস্বীকার করলে ওই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। যাচাই বাছাইয়ে ত্রুটির কারণে ১১ জনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে, একই সাথে ২৮জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন, যশোর-১ (শার্শা) আসনে আওয়ামী লীগের শেখ আফিল উদ্দিন, স্বতন্ত্র আশরাফুল আলম লিটন, ও জাকের পার্টির সবুর খান। যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে আ. লীগের ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মুফতি ফিরোজ শাহ, জাকের পার্টির সাফারুজ্জামান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আব্দুল আওয়াল। যশোর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের কাজী নাবিল আহমেদ, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মারুফ হাসান কাজল, জাতীয় পার্টির মাহবুব আলম বাচ্চু, বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির অ্যাড. সুমন কুমার রায়। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে আওয়ামী লীগের এনামুল হক বাবুল, স্বতন্ত্র রণজিত কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সুকৃতি কুমার মন্ডল, ইসলামী ঐক্যজোটের মো. ইউনুছ, জাকের পার্টির লিটন মোল্লা, জাতীয় পার্টির জহুরুল হক, তৃণমূল বিএনপির এম শাব্বির আহমেদ। যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে আওয়ামী লীগের স্বপন ভট্টাচার্য, স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম ইয়াকুব আলী, তৃণম‚ল বিএনপির প্রার্থী আবু নসর মোহাম্মদ মোস্তফা, জাতীয় পার্টির এমএ হালিম, ও ইসলামী ঐক্যজোটের হাফেজ মাওলানা ন‚রুল্লাহ আব্বাসী। যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে আওয়ামী লীগের শাহীন চাকলাদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী এইচএম আমির হোসেন, জাকের পার্টির সাইদুজ্জামান ও জাতীয় পার্টির জিএম হাসান।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আবরাউল হাছান মজুমদার বলেন, ৪৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করা হয়েছে। মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকায় ১৮জনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

 

 

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ