যশোরে বই উৎসবে ছয় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী নিবেন নতুন বইয়ের ঘ্রাণ

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক  ভোট উৎসবের কারণে বই উৎসবে ভাটা পড়বে এমন ভাবনা চেপে বসেছিল অভিভাবকদের। তবে সেই ধারণা বদলেও দিয়েছে সরকার। প্রতিবছরের মতো এবারের নতুন বছরে নতুন বইয়ে উৎসবে মাতবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। সোমবার পহেলা জানুয়ারি বই উৎসবে জেলার তিন হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছয় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী নতুন বই স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে নিতে পারবেন নতুন বইয়ের ঘ্রাণ। তবে রবিবার পর্যন্ত প্রাথমিকের শতভাগ বই পৌঁছালেও মাধ্যমিকের ২৭ শতাংশ বই এখনো এসে পৌঁছেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কারিকুলামের কারণে এবার মাধ্যমিকের অষ্টম ও নবম শ্রেণির বই পেতে দেরি হলেও অন্যান্য শ্রেণির বই চলে এসেছে। বাকি বইগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হবে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজুল হোসেন বলেন, ‘এবার এখনো সব বই পাননি তাঁরা। সব মিলিয়ে চাহিদার ৭৩ শতাংশ বই এসেছে। বইগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দেওয়া হচ্ছে। বাকি ২৭ শতাংশ বই দ্রæত চলে আসবে বলে তাঁদের ধারণা। এবার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বই উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হবে। তবে, কোন শিক্ষার্থী খালে হাতে যাবে না। কিছু না কিছু বই হাতে নিয়ে বাসায় ফিরবে।’

সংশ্লিষ্ট শিক্ষাদপ্তরের তথ্যমতে, যশোর জেলায় দুই হাজার ২২২টি প্রাথমিক, ৫৩৪টি মাধ্যমিক ও ৩৬৫টি মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকে বইয়ের চাহিদা ১৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৫১ টি। চাহিদার শতভাগ বই জেলায় এসেছে। আর জেলায় মাধ্যমিক স্তর যেমন দাখিল, এবতেদায়ী, এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনালে বইয়ের চাহিদা ৩৬ লাখ ৮১হাজার ২৪৪ টির মধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে ২৪ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯৮ টি বই। মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে বই শতভাগ এসেছে। তবে সপ্তম শ্রেণির ইংরেজি বই এসেছে চাহিদার ৮১ দশমিক ৮২ শতাংশ। এদিকে ৮ম শ্রেণির ইংরেজি ও নবম শ্রেণির কোনো বই এখনো আসেনি। এদিকে ইবতেদায়ী শ্রেণিতে চাহিদার সকল বই এসেছে। যার চাহিদার ৯৬ দশমিক ৬০ শতাংশ বই বিতারণ করা হয়েছে। এছাড়াও দাখিলের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে বাংলা বই এসেছে চাহির ১৭ শতাংশ, দাখিল। সপ্তম শ্রেণির বাংলা বই এসেছে চাহিদার শতভাগ, ৮ম ও ৯ম শ্রেণির বাংলা বই এসেছে চাহিদার ৬০ ও ৫৪ শতাংশের একটু বেশি।

যশোরের শার্শার সেতাই-আমনাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে অধিকাংশ বই হাতে পেয়ে গেছি। ক্লাস ৬, ৭ ও ৮ম শ্রেণীর সকল বই পেয়েছি। নবম শ্রেণীর তিনটি বিষয়ের বই এখনো পায়নি। প্রায় সাড়ে চার শ’ শিক্ষার্থীর বইয়ের চাহিদা পাঠানো হয়েছিলো; তার মধ্যে ৯৭ শতাংশ বই পেয়েছি। এই বই দিয়ে বই উৎসবে বই বিতরণ করা হবে।’

সদর উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে জানান, গেল বছরও শতভাগ পাঠ্যবই আসেনি। এবারও আসেনি। এবার ২৮ শে ডিসেম্বর পেরিয়ে গেলেও ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ব্যতীত অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখনো বই পায়নি। এই নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী আহসান বলেন, ‘শতভাগ বই আমরা পেয়ে গেছি। শুধু আমরা না, সব বই স্কুলে স্কুলে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এ বছর বই পরিবহণে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বই পরিবহনে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’ এদিকে আজ সকাল ৯টায় যশোর জিলা স্কুলে বই উৎসবের উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার। এর পর যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও নবকিশালয়ে তিনি বই উৎসবের উদ্বোধন করবেন। তার সঙ্গে এসময় জেলা প্রশাসনের উদ্ধতন কর্মকর্তা ও শিক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ অংশ নিবেন।

জাগো/জেএইচ 

 

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ