যশোরের কৃতী সন্তান মাইকেল সেইসময় ছিলেন সবচেয়ে আধুনিক-নাবিল 

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক 
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কাজী নাবিল আহমেদ এমপি বলেছেন, দুইশ’ বছর আগে যখন আমরা ফিরে যাবো, দেখবো বেঙ্গল রেনেসাঁ। তখন সেটি ছিল সেইসময়কার আধুনিকতা। আধুনিকতা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে আসে। বর্তমানে আমরা আধুনিকতা বলতে বুঝি-ইনফরমেশন কমিউনিকেশন টেকনোলজি-আইসিটি, তথ্য-প্রযুক্তিসহ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এআই। এরসাথে যদি বায়োটেকনোলজি, মহাকাশ বা বিভিন্ন ধরনের গবেষণার কথা বলি, সকল ক্ষেত্রে প্রধান উপাদান হচ্ছে শিক্ষা। আর এই বঙ্গে শিক্ষার পীঠস্থান হচ্ছে সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যার নামকরণ করা হয়েছে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামে। তিনি আমাদের যশোর জেলার কৃতী সন্তান। তার সময়কালে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে আধুনিক মানুষ; তার পড়াশুনা, তার সাহিত্য তার রুচি- সবকিছুই ছিল আধুনিক। বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ প্রাঙ্গণে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচন সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন।

পাঁচবারের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে অবকাঠামোগত, শিক্ষাব্যবস্থায়, স্বাস্থ্যব্যবস্থায়, কোভিড মহামারিতে কার্যকর পদক্ষেপ ও সকল নাগরিককে ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে যা করেছেন, এগুলোও হচ্ছে আধুনিকতার ছোঁয়া।

আগামী ৫ বছরে দেশের অবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল বলেন, শেখ হাসিনা ৫ম বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তার নেতৃত্বে এই মেয়াদে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অনেক ধরনের গুণগত পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এতে অবশ্যই যেন যশোর তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব ও অংশীদার বজায় রাখতে পারে, সেক্ষেত্রে আমিসহ অন্য সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব থাকবে সেটি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখা।

তার বাবা দৈনিক আজকের কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদক, জেমকন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা কাজী শাহেদ আহমেদ এই এমএম কলেজের ছাত্র ছিলেন উল্লেখ করে কাজী নাবিল বলেন, এমএম কলেজ থেকে অনেক বরেণ্য ব্যক্তি পাস করে বেরিয়ে গেছেন। তারা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের অবদান রেখেছেন। আমার বাবা কাজী শাহেদ আহমেদ ১৯৬০ সালে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আইএসসি পাস করে পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে যান সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশুনা করতে। আমার চাচারা সবাই এখানে পড়াশুনা করেছেন। এছাড়া যশোর জেলার অনেক সাবেক মন্ত্রী, সচিব, প্রকৌশলী, অধ্যাপক, সাহিত্যিক, প্রথিতযশা ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন।

আমি এমএম কলেজের প্রিন্সিপ্যাল মহোদয়কে অনুরোধ করছি, ১৯৪১ সালের পর থেকে এই কলেজের সাবেক ছাত্র যারা দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন, তাদের নাম লিপিবদ্ধ করতে। সেগুলো যেন রেকর্ড হিসেবে থাকে।

প্রধান অতিথি এই প্রথম যশোর সরকারি এমএম কলেজে মহাকবির জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সাড়ম্বরে পালন করায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে অনেক কিছুর মধ্যে এই সময়ে একটি অডিটরিয়াম জরুরি। আমি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে আলাপ করবো, এবং এই মেয়াদকালে যেন কলেজের একটি অডিটরিয়াম নির্মাণ সম্ভব হয়- সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখবো।

যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ প্রফেসর মর্জিনা আক্তারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রপেসর ড. মো. আহসান হাবীব, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রপেসর ড. মো. আবু বকর সিদ্দিকী, জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর মদন কুমার সাহা। আলোচনা করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আহসান মোহাম্মদ ইকরামুল হক, ছাত্রলীগ এমএম কলেজ শাখার সদস্য শেখ ইব্রাহিম সাগর, ওহিদুল ইসলাম রাব্বি প্রমুখ। আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মাতেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

জাগো/জেএইচ 

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ