মিল্টন সমাদ্দার ৯০০ লাশ দাফনের প্রমাণ দেখাতে পারেননি : ডিবিপ্রধান

আরো পড়ুন

চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ারের কর্ণধার মিল্টন সমাদ্দার ৯০০ লাশ দাফনের যে দাবি করেছিলেন, তার কোনো প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি। বরং জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে মানুষের সহানুভূতি ও টাকা আদায়ের জন্য লাশের সংখ্যা বাড়িয়ে বলে ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি নিজে স্বীকার করা ১৩৫টি লাশ কোথায় দাফন করা হয়েছে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য দিতে পারেননি মিল্টন সমাদ্দার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, মিল্টন সমাদ্দারের অভিযোগের বিষয়ে আরও তদন্ত চলবে। অনাথ-অসহায় মানুষের ভিডিও দেখিয়ে ফেসবুকে মানুষের বিবেকে নাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন মিল্টন। মানুষজন তার কথা বিশ্বাস করে বিকাশ-নগদের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু আশ্রমে কোনো ডাক্তারই ছিল না। বরং মিল্টন নিজেই বিভিন্ন অপারেশন করতেন। মানুষজন যখন আর্তনাদ করত, তখন সে পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করত।

তিনি আরো বলেন, তাদের আরও কিছু তথ্য জানার বাকি আছে। প্রয়োজনে মিল্টনকে আবারও রিমান্ডে নেওয়া হবে। সমাজে এ ধরনের কাজ আরও যারা করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিল্টন কোটি কোটি টাকা মানুষের কাছ থেকে এনে নিজের অ্যাকাউন্টে রেখে দিয়েছে। কারা তাকে সহযোগিতা করেছে, তা বের করার চেষ্টা চলছে।

মিল্টন অনেক বিশেষ ব্যক্তির সাথে যোগাযোগে ছিলেন। তাই তিনি মনে করতেন, কেউ তাকে কিছু করতে পারবে না। যারা মিল্টনের আশ্রমে শিশু ও অসুস্থ মানুষ দিয়ে আসত, তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার ও মারধর করা হত। আলোচনায় আসা অভিযোগে মিল্টন সমাদ্দারের স্ত্রীর কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। বর্তমানে চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ারের দায়িত্ব একটি ফাউন্ডেশন সম্পূর্ণরূপে বহন করছে।

মানবপাচার আইনের মামলায় চারদিনের রিমান্ড শেষে আজ দুপুরে আদালতে হাজির করা হয় ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ আশ্রমের চেয়ারম্যান মিল্টনকে।

জাগো/আরএইচএম

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ