মনিরামপুরে দুই প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও গাড়ি ভাংচুর

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক 
যশোরের মনিরামপুরে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়িবহরে থাকা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গতকাল বুধবার রাতে কাশিমনগর ইউনিয়নের মদনপুর বটতলা ও মথুরাপুর মোড়ে কয়েক দফায় দুই পক্ষের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলী হাসান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি দুই পক্ষের দুজনকে ৫ হাজার টাকা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। অবশ্য বুধবার রাতের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াকুব আলীর গাড়িবহরে থাকা তাজাম্মুল হোসেন বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পরে কাশিমনগর ইউনিয়নের মদনপুর বটতলা মোড়ে আমাদের কর্মী রাব্বি হাসান ও আবু তোহা পোস্টার টানাচ্ছিল। তখন বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা হাবিবুর রহমান তাঁদের মারধর করেন। পরে কাশিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে নৌকার কর্মীরা চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত করেন। খবর পেয়ে আমরা প্রার্থী ইয়াকুব আলীসহ কয়েকটি কার ও মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আমরা যাওয়ার আগে ঘটনাস্থলে পুলিশসহ এসিল্যান্ড হাজির হন। পরিস্থিতি শান্ত করে ফেরার পথে কাশিমনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি আশরাফুল আলম মিন্টুর নেতৃত্বে নৌকার কর্মীরা আমাদের বহরে হামলা করে প্রার্থীর প্রাইভেট কারসহ সাত থেকে আটটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। এতে আমাদের পাঁচজন আহত হয়েছেন।’

 

এদিকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্য্যের সমর্থক যুবলীগ নেতা আশরাফুল আলম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘বুধবার রাত ৮টার দিকে মদনপুর বটতলা মোড়ে আমরা নৌকার অফিসে গেলে ঈগলের কর্মী বিল্লাল আমাদের সঙ্গে থাকা হাবিবুর রহমানকে মারতে উদ্যত হয়। এ সময় ধস্তাধস্তি হলে আমরা বিষয়টি মিটিয়ে দিই। পরে বিল্লালের ফোন পেয়ে তৌহিদ চেয়ারম্যান নিজের ছেলেসহ ১০-১২টা মোটরসাইকেলে লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এসেই চেয়ারম্যানের ছেলে নৌকার সন্ত্রাসীরা কই বলে চিৎকার করতে থাকেন।

তখন আমাদের লোকজন এগিয়ে গেলে ধাক্কাধাক্কি হয়। এর মধ্যে এসিল্যান্ড পুলিশ নিয়ে হাজির হয়ে আমাদের হাবিবুরকে জরিমানা করেন। তখন আমরা ঘটনাস্থল থেকে খানিকটা দূরে অবস্থান নিই। এ সময় ঈগলের প্রার্থী দলবল নিয়ে এসে আমাদের হামলা করেন। এতে আমার বাঁ পায়ে আঘাত লাগে। আমাদের দলের তুহিন নামে একটি ছেলে মারপিটের শিকার হয়। রাত ২টার দিকে আমরা দুজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছি।’

তাহলে ঈগলের প্রার্থীর গাড়িবহর ভাঙচুর কে করেছে, এমন প্রশ্নে আশরাফুল আলম মিন্টু বলেন, ‘আমি আঘাত পেয়ে পড়ে ছিলাম। অন্ধকারে কে কাকে কী করেছে বলতে পারব না।’

কাশিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি মদনপুর বটতলায় গেলে অপর পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আমি এসিল্যান্ডের সঙ্গে থেকে পরিস্থিতি শান্ত করেছি।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলী হাসান বলেন, ‘বুধবার রাতে কাশিমনগর ইউনিয়নের মথুরাপুর ও মদনপুর মোড়ে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এস এম ইয়াকুব আলী ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্য্যের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপন ভট্টাচার্য্যের সমর্থক হাবিবুর রহমান ও ইয়াকুব আলীর সমর্থক আবু তোহাকে ৫ হাজার টাকা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি।’

এসিল্যান্ড বলেন, পরে বেআইনি সমাবেশ দূর করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

 

জেবি/জেএইচ 

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ