নাশকতার আশঙ্কায় রেলে ‘ধীরে চলো’ নীতি, ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়

আরো পড়ুন

দুই দিন আগে গাজীপুরে রেলপথে নাশকতার ঘটনার পর ট্রেনে ধীরে চলো নীতি প্রয়োগ করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রেন চলাচলের গতিসীমা ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটারে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এতে শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর; বেশির ভাগই ছাড়ছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা দেরি করে। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার পূর্বাঞ্চলের এসসিওপিএস (পি) কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে জানা যায়, চলমান বিরূপ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিরাপদ ট্রেন পরিচালনার লক্ষ্যে ট্রেন চলাচলের গতিসীমা কমানোর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে পূর্বাঞ্চলের ৯টি সেকশনে নিয়মিত ট্র্যাক প্যাট্রলিং করার কথা বলা হয়েছে। ঢাকা-আখাউড়া, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-আখাউড়া, শায়েস্তাগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-সিলেট, গৌরীপুর-ময়মনসিংহ-শ্যামগঞ্জ, আখাউড়া-ভৈরববাজার, টঙ্গী-ভৈরববাজার, জয়দেবপুর-গফরগাঁও, ময়মনসিংহ-সম্বুগঞ্জ সেকশন নিয়মিত পেট্রোলিং করতে হবে। একই সঙ্গে রাত ১১টার পর থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত চলাচলরত ট্রেনগুলোকে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে পরিচালনা করতে হবে।

এর আগে ১৩ ডিসেম্বর গাজীপুরে নেত্রকোনা থেকে ঢাকাগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় পড়ে। ২০ ফুটের মতো রেললাইন কেটে রাখা হয়েছিল। এতে করে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ সাত বগি উলটে একজন নিহত ও সাতজন আহত হয়। এর পর থেকেই এই রুটের ট্রেনগুলোকে ধীরে চালানোর কথা বলা হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে ওই অঞ্চলে চলাচলরত সব ট্রেনে।
আজ শুক্রবার ঢাকা রেলস্টেশনের অনবোর্ড স্ক্রিনে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে দেখা যায়, রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস (৭৬৯) ভোর ৬টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি ছেড়ে যায়নি; সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯) ভোর সাড়ে ৬টায়; চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (৭৮৮) সকাল ৭টায় ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি ছাড়েনি।
সাড়ে ৮টার সময় দেখা যায়, কিশোরগঞ্জগামী এগার সিন্দুর প্রভাতী (৭৩৭) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি ছাড়েনি; দেওয়ানগঞ্জ বাজারগামী তিস্তা এক্সপ্রেস (৭০৭) সকাল সাড়ে ৭টায় এবং মোহনগঞ্জগামী মহুয়া কমিউটার (৪৩) সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা কিন্তু সেটি ছাড়েনি।

এদিকে চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী (৭০৪) সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি ঢাকা ছাড়ে ৮টা ২৫ মিনিটে। এর বাইরে সারা দিনের সব ট্রেনের কমবেশি শিডিউল বিপর্যয়ে ছিল।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঢাকায় ট্রেন আসতে বিলম্ব হওয়া, ঘন কুয়াশা ও নাশকতার আশঙ্কায় গতি কমানো হয়েছে। এতে করে কমবেশি সব ট্রেনের সময়ে পরিবর্তন হয়েছে।

ঢাকা রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, ট্রেনগুলো ঢাকায় দেরিতে পৌঁছেছে বলে দেরিতে ছেড়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া নাশকতার আশঙ্কায় গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলোতে যাত্রীবাহী ট্রেন ছাড়ার আগে পাইলট ইঞ্জিন যাচ্ছে। আসতে সময় লাগছে। এর বাইরে কোনো কারণ নেই।

 

জেবি/জেএইচ 

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ