ঝিকরগাছায় সাবেক মেম্বরকে ইয়াবাসহ ফাঁসানোর অভিযোগ

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের ঝিকরগাছায় বাঁকড়ার বড় খলশি গ্রামের সাবেক মেম্বর ও আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুল ইসলামকে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে মাদক দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে এমন দাবি করেছে এলাকাবাসী ও তার পরিবার। বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করা হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শরিফুল ইসলামের স্ত্রী রাশিদা খাতুন। মানববন্ধনে বড় খলশি গ্রামের কয়েকশ মানুষ অংশ নেয়।

এসময় তারা অভিযোগ করেন, সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে ওই গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য ইসরাইল হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছিলেন। নির্বাচনের পরদিন তার পিতাকে মারধোর করে নৌকা সমর্থক শরিফ মেম্বরের লোকজন। সেই প্রতিহিংসার জেরে তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে এমন দাবি করে তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৯জানুয়ারি সন্ধ্যায় বড় খলসী বাজার থেকে আচমকা সাবেক মেম্বর শরীফ ও আওয়ামীলীগ নেতা বাবলু কে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও র‍্যাব। এসময় তাদের দুইঘন্টা গাড়িতে বসিয়ে রাখে। এরপর তাদের বাড়ি, মাছের ঘের, গরুর খামার তল্লাশি করে তারা। রাত ৯ টার দিকে শরিফের মাছের ঘেরের পাশে টিটোর মাছের ঘের থেকে ৩’শ ৮১ পিচ ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করে সেটা শরীফের মাছের ঘের থেকে উদ্ধার দেখানো হয়েছে।

মানববন্ধনে এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য দেন মো. আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, জামায়াত সমর্থিত বর্তমান মেম্বর ইসরাইল হোসেন প্রশাসনকে টাকা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে শরিফ মেম্বরকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করছি। তিনি বলেন, খলসী বিল কচুয়ার একটি টিনের ঘর ও টিনের চালার খুপরী থেকে শরীফসহ তিনজনকে আটক করে সেখান থেকে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে বর্ণনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই টিনের খুপরী ঘরটির মালিক দেখানো হয়েছে শরীফকে। কিন্তু মাদক উদ্ধারের স্থান বা খুপরী ঘরটি শরীফের নয় এটি তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে। আমরা নির্দোষ শরীফ মেম্বারের মুক্তি চাই।

তিনি বলেন, কলারোয়া উপজেলার কুশুডাঙ্গা ইউনিয়নের পিসলাপোল গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রবিউলের সাথে শরীফকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করে ইসরাইল। চুক্তি হয় রবিউল মাদক পাঠাবে পিসলাপোল গ্রামের মিলনের মাধ্যমে। পরিকল্পনা মোতাবেক ইসরাইল মেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কথিত সোর্স যশোরের আলী হায়দারের সাথে। সেখানে ৫ লাখ টাকার চুক্তি হয় যে, ইসরাইল মেম্বর খলসী গ্রামের সাবেক মেম্বর ইয়াকুব্বারের ইটের ভাটায় মাদক এনে মাদক বিক্রেতা তুহিন ও ইবাদুলের মাধ্যমে সাবেক মেম্বার শরীফের মাছের ঘেরে অথবা তার পাশে টিটোর ঘেরে রেখে দিবে। এরপর সোর্স আলী হায়দার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ফোনে ডেকে ধরিয়ে দেবে। পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাজার থেকে শরীফ মেম্বারের সঙ্গে আটক আওয়ামী লীগ নেতা বাবলুকে ছেড়ে দিয়েছে এবং এ ঘটনায় মাদক বহনকারী পিসলাপোল গ্রামের মিলন ও সোর্স আলী হায়দারকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। তবে তাদেরকে দিয়ে এ কাজ ইসরাইল মেম্বার করিয়েছেন এবং শরীফ মেম্বারকে চিনেন না বলে জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তার শরিফ মেম্বরের বৃদ্ধা মাতা বলেন, বাড়ি থেকে আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসিয়েছে। আমার ছেলেকে মুক্তি দিন, নাহয় আমাকেও ছেলের কাছে জেলে ঢুকিয়ে দিন। উল্লেখ্য, গত সোমবার দিবাগত রাতে যশোর র‍্যাব-৬ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের বড়খলসি থেকে সাবেক ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলামসহ তিনজনকে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করা হয়।

জাগো/জেএইচ

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ