চৌগাছায় ২৪ ঘন্টায় তিনজনের আত্মহত্যা

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক 
যশোরের চৌগাছায় ২৪  ঘন্টায় ভিন্ন ভিন্ন ঘটনায় এক গৃহবধূসহ তিনজন আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবার দাবি করেছে। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর ১৭ মাস বয়সি শিশু কন্যা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার (৫ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটা থেকে মঙ্গলবার (৬ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটার মধ্যে এসব আত্মহত্যা চেষ্টা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, গৃহবধু জেসমিন আক্তার (৩৫), কৃষক আব্দুল খালেক (৫০) এবং যানবাহন শ্রমিক বায়েজিদ হোসেন (১৮)। উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের পেটভরা গ্রামের ইউপি সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক শামীম রেজা বলেন, পেটভরা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে জেসমিন আক্তারের চার বছর আগে উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রামের মুক্তার হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। তাদের জেরিন (১৭মাস) বয়সি একটি মেয়ে রয়েছে। বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য ছিলো। সোমবার সন্ধ্যায় জেসমিনের শ^শুর বাড়ি থেকে সংবাদ আসে জেসমিন ও তার মেয়ে জেরিন ঘাষ পোড়া (ভ্যানিস) পাউডার খেয়েছে। তখন তাদের উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক।

সেখানে জেসমিনের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা মঙ্গলবার সকালে খুলনায় রেফার করেন। তবে জেসমিনের শুশুর বাড়ির লোকজন তাকে খুলনায় না নিয়ে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। জেসমিনের বাবার বাড়ির লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে আমিসহ মঙ্গলবার বিকেল চারটার কিছু আগে সাদিপুর গ্রামে গেলে শুশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। সেখান থেকে আমরা উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান জেসমিনের ১৭মাস বয়সী কন্যা জেরিন আশঙ্কাহজনক অবস্থায় যশোর ২৫০শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

অন্যদিকে পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের বলিদাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেকের অভাব-অনটনের কারনে স্ত্রী-সন্তানের সাথে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো।  মঙ্গলবার সকালেও পারিবারিক বিষয়ে স্ত্রী-সন্তানদের সাথে বিবাদ হয়। পরে তিনি বাড়ি থেকে ধানের খেতে গিয়ে সকাল ১০টার দিকে ধানে দেয়া কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। মাঠে কাজ করা অন্য কৃষকরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর যশোর ২৫০শয্যা হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

যানবাহন শ্রমিক বায়েজিদ হোসেন উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের মাড়–য়া গ্রামের মৃত-মুক্তার আলীর ছেলে। অতি দরিদ্র পরিবারের বায়েজিদ স্থানীয় ইঞ্জিন চালিত যানবাহন আলমসাধু চালক ছিলো। বছরখানেক আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে সে কিছুটা মানসিক ভারসম্য হারায়। এরপর থেকে কাজ করতো না। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা রোজগার করতো তাতেই চলতো আর নিজে এখনে ওখানে ঘুরে বেড়াতো। সোমবার দুপুরে খাওয়ার সময় মা কাজ করার কথা বলে বকাঝকা করলে অভিমানে ঘরের আড়ার সাথে একটি গায়ে দেয়া চাদর দিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। মা’য়ের চিৎকারে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে বিকাল সাড়ে চারটায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, এসব ঘটনায় পৃথক অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

জাগো/জেএইচ 

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ