কি কারণে শাহীন চাকলাদারের পরাজয়

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক 

যশোর -৬ (কেশবপুর ) আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার নৌকা প্রতীক নিয়ে ৩৯ হাজার ২৬৯ ভোট পেয়েছেন। বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুল ইসলাম ঈগল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৯৪৭ ভোট। এর আগে একাদশ সংসদের উপ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের শাহীন চাকলাদার পেয়েছিলেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ১২ ভোট। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েও নতুন মুখের কাছে পরাজিত হওয়াতে নেতাকর্মীরা হতভম্ব হয়েছেন।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক দশক ধরে হাতুড়ি বাহিনীর কাছে কেশবপুর উপজেলা জিম্মি হয়ে পড়েছিল। আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় হাতুড়ি বাহিনীর সদস্যদের হাতে সাধারণ মানুষ নির্যাতিত হয়েছেন। তাদের বেপরোয়া আচরণের হাত থেকে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরাও রেহাই পাননি। তবে যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের শাহীন চাকলাদার নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় কেশবপুরের চিত্র পাল্টে যায়। হাতুড়ি বাহিনীর সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যায়। ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায় তৃণমূল আওয়ামী লীগ। বর্তমানে আওয়ামী লীগে হাতুড়ি বাহিনী না থাকলেও শাহীন চাকলাদারের অনুসারীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ-বিক্ষোভ আছে। স্বজনপ্রীতি, বিভিন্ন স্থানে নিয়োগের নামে বিএনপি নেতাকর্মীদের পুর্নবাসন, অনিয়ম ও দলীয় কোন্দলের কারণে উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার বর্তমানে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ফলে এক সময়ের ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ এখন গ্রুপ; উপ গ্রুপে বিভক্ত। যার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এইচ এম আমির হোসেন ও আজিজুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অবতীর্ণ হন। তাতে জমে ওঠে যশোর-৬ আসনের নির্বাচন। শাহীনের বিরোধী শক্তিরা তাকে হটাতে নির্বাচনী মাঠে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুল ইসলামের পক্ষে।

এছাড়া শাহীন চাকলাদার কেশবপুরের সংসদ সদস্য হলেও তার বাসা যশোর সদরে। স্থানীয় এমপি চাই—এমন স্লোগান নিয়ে শাহীন বিরোধীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজের পক্ষে কাজ করেছেন। এছাড়া স্থানীয় মানুষেরা বলেন, ২৯ বছর বয়সী আজিজএলাকার তরুণদের কাছে জনপ্রিয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় থেকে জনসংযোগ করছেন। আজিজুল ইসলামের এ জয়ে তরুণ ভোটারদেরই অবদান বেশি। ‘স্থানীয় প্রার্থীকে ভোট দিব’ এমন জোয়ার তাকে এ অবস্থানে পৌঁছাতেও ভূমিকা রেখেছে।স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে আজিজুল ইসলাম অংশগ্রহণ করলে তার পক্ষে এলাকায় যুব সমাজের মধ্যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়। তার পাশে আওয়ামী লীগের কোনো পদধারী নেতাই ছিলেন না। একরকম চমক সৃষ্টি করেই তিনি ৯ হাজার ৬৭৮ ভোটের ব্যবধানে শাহীন চাকলাদারকে পরাজিত করেন।

ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহীন চাকলাদারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ বলেন, শাহীন অনেক ভোট পেয়েছেন। তবে বিএনপি-জামায়াতের একটি অংশের ভোট পাওয়ায় আজিজুল ইসলাম জয় পেয়েছেন। তবে প্রশাসন থেকে নৌকার কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত খবরদারি করা হয়। ফলে তাঁরা সহজে প্রচারণা চালাতে পারেননি। এটাও ফল খারাপ হওয়ার একটা কারণ। জয়ী প্রার্থী আজিজুল ইসলাম বলেন, কেশবপুরের মানুষদের ‘বহিরাগত’ হিসেবে শাহীন চাকলাদার এবং তাঁর লোকজনেরা নানাভাবে বঞ্চিত করেছেন। সেই বঞ্চিত মানুষই ভোটের মাধ্যমে তাঁদের রায় দিয়েছেন।

জাগো/জেএইচ 

 

 

 

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ