কথার ফুলঝুরি আর যুক্তির ঝংকারে যশোরে চলছিল বির্তকের তুমুল লড়াই

আরো পড়ুন

নিজস্ব প্রতিবেদক  কেউ এসেছেন বাবার সঙ্গে, কেউ বা মায়ের সঙ্গে। আবার কেউ বা এসেছেন শ্রেণী শিক্ষকের সঙ্গে। তাদের সকলের স্বপ্ন নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জয়ী করার। নিজ নিজ স্কুলের ড্রেস পরে দুটি দল উঠেছেন মঞ্চে। এর পর অপেক্ষা যুদ্ধের। ঢাল-তলোয়ারের যুদ্ধ নয়। কথার পিঠে কথার যুদ্ধ। তাও ইংরেজিতে। কিছুদিন আগেও যারা ইংরেজি দেখলে ভয় পেত; তারাই আবার অনর্গল ইংরেজিতে যুক্তির পর পাল্টা যুক্তি, তারপর প্রতিপক্ষের সেই যুক্তিকে খন্ডন করছেন। কথার ফুলঝুরি ও যুক্তির ঝংকারে চলছিল তুমুল লড়াই। ছাড় দেয়নি কেউ কাউকে। প্রতিটি শব্দ ও বাক্যের প্রতিবাদী যুক্তি-পাল্টা যুক্তিতে তর্ক উৎসবে মজেছিল শনিবার যশোর কালেক্টরেট স্কুলে।

IMG 20240210 WA0015

ইংরেজি শিক্ষাকে ছড়িয়ে দিতে জেলা প্রশাসন যশোর ও সানাবিল ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আইডিয়া স্পোকেন -দ্যা গেইম মেথডের আয়োজনে এদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এই বির্তকের লড়াই দেখে মুগ্ধ হন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। সেমিফাইনালের এই পর্বে অংশ নেয় কালেক্টরেট স্কুল যশোর, সখিনা গার্লস হাই স্কুল, যশোর নবকিশলয় স্কুল ও যশোর আমিনিয়া মাদ্রাসা। জমজমাট সেমিফাইনালে লড়াইয়ের পর ফাইনাল রাউন্ডে উর্ত্তীণ হয় কালেক্টরেট স্কুল যশোর ও সখিনা গার্লস হাই স্কুল।

যা আগামি ২২ ফেব্রুয়ারি চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ ঘোষণার মধ্যে দিয়ে শেষ হবে দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হওয়া এ ধরণের আন্ত:স্কুল ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিতা।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, ‘স্মার্ট যশোর ফর স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় যশোরের স্বনামধন্য দশটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১০০০ শিক্ষার্থীকে আইডিয়া স্পোকেন-দ্য গেইম মেথড টিম বিনামূল্যে ইএসএল এর মধ্যে দিয়ে ইংরেজি শেখাচ্ছে ৬ মাসব্যাপী। খেলতে খেলতে ইংরেজি শেখানোর এই প্রকল্পের সমাপ্তি হবে আগামী ২২ ফেব্রæয়ারি। সেই লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের চ‚ড়ান্ত ডিবেট টিম বাছাইয়ের উদ্দেশ্যে ২৫ জানুয়ারি থেকে আন্ত:স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় যশোর নবকিশলয় স্কুল, আমেনিয়া দাখিল মাদ্রাসা, যশোর কালেক্টরেট স্কুল এবং সখিনা স্কুল যশোর সেমিফাইনাল পর্বে উর্ত্তীণ হয়। এই চার দলের মধ্যে শনিবার প্রতিযোগিতায় ফাইনালে কোয়ালিফাই করেছে।WhatsApp Image 2024 02 10 at 8.48.26 PM

এর আগে যশোর কালেক্টরেট স্কুলের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বিতর্ক অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আইডিয়া স্পোকেনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন দৈনিক কল্যাণের প্রকাশক ও সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা, দৈনিক সমাজের কথার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আমিনুর রহমান মামুন, যশোরের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ইতিহাস গবেষক সাজেদ রহমান।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে বাংলার পাশাপাশি ভালো ইংরেজিতে পারদর্শী হতে হবে। এসব কমলমতি শিক্ষার্থীদের বির্তক প্রতিযোগিতায় লড়াই দেখে আমরা মতো এখানে উপস্থিত সকলেই অভিভূত। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে যশোর জেলাকে স্মার্ট জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শিখনে বড় ভ‚মিকা রাখছে আইডিয়া স্পোকেন-দ্যা গেইম মেথড। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি-‘স্মার্ট সিটিজেনের এই শিক্ষার্থীরাই অগ্রণী ভ‚মিকা রাখবে। এরাই আগামির স্মার্ট সিটিজেনের স্মার্ট যশোরের স্বপ্নবীজ। সাধারণ শিক্ষার্থীর সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও যে ইংরেজিতে দক্ষ হতে পারে; সেটার অন্যন্য উদাহরণ দেখিয়ে আইডিয়ার এই স্পোকেন -দ্যা গেইম মেথড।’

আইডিয়া স্পোকেনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন জানান, ‘আইডিয়া স্পোকেন টিম ভীষণ সাহস নিয়ে যশোরের স্বনামধন্য দশটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ইংরেজি শেখানোর কার্যক্রম শুরু করেছিলো। কোন কাজ শুরু করা সহজ, কিন্তু বাধাবিপত্তি পেরিয়ে শেষ করাটা অনিশ্চিত। সকল সীমাবদ্ধতাকে পার করে আমাদের সেই প্রকল্প এখন শেষের পথে। এই আয়োজন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হলেও আমার শিক্ষার্থীরা একদিনের জন্যও কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর ক্লাস বাদ দেয়নি; একাধারে চলেছে ব্লেন্ডেড মেথডে প্রতি সপ্তাহের অনলাইন কার্যক্রমে ইংরেজি শিখন। এসবের মধ্যে দিয়ে দশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক হাজার শিক্ষার্থী যারা ইংরেজিকে ভয় পেতো, তারা আজ ইংরেজিতে বিতর্ক করছে, অনার্গল কথা বলছে, বক্তব্য রাখছে। প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রথম পিলার ‘স্মার্ট সিটিজেন’ তৈরির জন্য ইংরেজি শেখার গুরুত্বকে উপলব্ধি করেই আমাদের এই যাত্রার সূচনা ছিলো, যা সফল।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি সোমা খান, সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, আইডিয়া স্পোকেনের কোর্ডিনেটর নাবিলা সুলতানা, আইডিয়া স্পোকেন ফ্যাসিলিটেটর শাহরিয়ার খান প্রান্তসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা। বিতর্কে জয়লাভ করে ফাইনাল রাউন্ডে উঠেছে সখিনা গার্লস হাই স্কুল এবং যশোর কালেক্টরেট স্কুল। শ্রেষ্ঠ বক্তার খেতাব পেয়েছে নবকিশলয় স্কুল যশোরের শিক্ষার্থী তাসফিয়া হক ঐশ্বর্য্য, কালেক্টরেট স্কুলের শিক্ষার্থী ফাল্গুনি, সখিনা স্কুলের স্বাগতা।

জাগো/জেএইচ 

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ