এবার টি-২০’তে শান্তদের ইতিহাস

আরো পড়ুন

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে কিংবা টি-২০’তে জয় ছিল না বাংলাদেশের। নেপিয়ারে আগের ম্যাচে ওয়ানডেতে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছিল। এবার স্বল্প দৈর্ঘ্যর ম্যাচে পাঁচ উইকেটে জয় পেয়ে ইতিহাস গড়েছে লাল সবুজের দেশটি। কিউইদের মাটিতে এখন আর কোনো ফরম্যাটেই স্বাগতিকরা অজেয় নয়। তিন ফরম্যাটেই তাদেরকে হারানোর স্বাদ নিয়েছে টাইগাররা।
বুধবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের করা ১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আট বল হাতে রেখেই জয় পায় বাংলাদেশ। ৩৬ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন ওপেনার লিটন দাস। শেষ মুহূর্তে ১৬ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন মেহেদী হাসান।
১৩৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামার পর ১৩ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে আউট হন রনি তালুকদার। সাত বলে ১০ রান করেন তিনি। নাজমুল হোসেন শান্ত-লিটন দাসের জুটি ২৫ রান করে। শান্ত আউট হন ব্যক্তিগত ১৯ রানে। ১৪ বল খেলেন তিনি। সৌম্য সরকার ঝড় তোলার চেষ্টা করেছিলেন। ১৫ বলে খেলেছিলেন ২২ রানের ইনিংস। কিন্তু বেন সিয়ার্সের বল বুঝতে না পেরে বোল্ড হয়ে যান।
তাওহিদ হৃদয় ব্যাট করতে নেমে কিছুটা সম্ভাবনা জাগালেও ১৮ বলে ১৯ রান করে আউট হয়ে যান মিচেল সান্তনারের বলে। আফিফ হোসেন ক্রিজে এসে দাঁড়াতেই পারেননি। ছয় বলে এক রান করে আউট হয়ে যান তিনি।
নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকলে শঙ্কায় পড়ে যায় বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা। শেষ পর্যন্ত লিটন দাস আর শেখ মেহেদী হাসান মিলে বাংলাদেশকে জয়ের লক্ষে পৌঁছে দেন। ৩৬ বলে ৪২ রানে অপরাজিত ছিলেন লিটন। মেহেদী হাসান ১৯ বলে একটি বাউন্ডারি এবং একটি ছক্কায় করেন ১৯ রান। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।
এর আগে প্রথম ওভারে মাহেদী হাসানকে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সেইফার্টের ডানহাতি বোলিংয়ে দুর্বলতা ছিল, এবারও তিনি বোল্ড আউট হয়ে যান মাহেদীর বলে। তিন বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি এ ব্যাটার বোল্ড।
পরের ওভারে এসে ঝড়ই বইয়ে দেন শরিফুল। প্রথম বল ডট দেওয়ার পর দ্বিতীয়টিতেই উইকেট পেয়ে যান। ফিন অ্যালেন তিন বলে এক রান করে ক্যাচ দেন দ্বিতীয় স্লিপে। পরের বলটি ব্যাট উঁচিয়ে ছেড়ে দেন গ্লেন ফিলিপস, বল লাগে তার প্যাডে। শুরুতে আম্পায়ার আউট দেননি, তবে রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল দুই রানে তিনটি উইকেট। এমন হতভম্ব হওয়া শুরুর পর প্রতিআক্রমণের চেষ্টা করেন ড্যারল মিচেল। তানজিম হাসান সাকিবের করা তৃতীয় ওভারে আসে সাত রান, শরিফুলের করা পরের ওভারে দুই বাউন্ডারিতে নয় রান নেন মিচেল।
তার এই প্রতিরোধ থামিয়ে দেন মাহেদী হাসান। হালকা ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড হন মিচেল। ১৫ বলে ১৪ রান করেন তিনি। উইকেট হারালেও দলকে চাপে পড়তে দেননি মার্ক চাপম্যান। তানজিম সাকিবের বলে দুই চার ও এক ছক্কায় ১৪ রান নেন। পাওয়ার প্লে শেষ পর্যন্ত খুব একটা খারাপ হয়নি। চারটি উইকেট হারিয়ে ৩৬ রান করে তারা।
পাওয়ার প্লের পরের ওভারগুলোতে রান হয়নি খুব একটা। ওই চাপ থেকে চাপম্যানকে আউট করেন রিশাদ হোসেন। তার বলে ডিপ কাভারে দাঁড়িয়ে চাপম্যানের ক্যাচ নেন তানজিম হাসান সাকিব। ১৯ বলে ১৯ রান করে আউট হন চাপম্যান।
এরপর জিমি নিশাম ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। চার-ছক্কা হাঁকাতে থাকেন। ১৭ ওভারে নিশামকে আউট করেন মোস্তাফিজ। ইয়র্কার করতে গিয়ে দেওয়া তার ফুলটসে তুলে মারতে গিয়ে ডিপ কাভারে দাঁড়ানো আফিফকে ক্যাচ দেন তিনি। চারটি ও তিনটি ছক্কায় ২৯ বলে ৪৮ রান করেন নিশাম।
দেড়শ রান ছাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও পরে হয়নি সেটি। ২২ বলে ২৩ রান করে মিচেল স্যান্টনার দলের রান নিয়ে যান ১৩০ ছাড়িয়ে। বাংলাদেশের হয়ে চার ওভারে ২৬ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম। দু’টি করে উইকেট নেন মাহেদী হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান। একটি উইকেট করে নিয়েছেন তানজিম হাসান সাকিব ও রিশাদ হোসেন।

জেবি/জেএইচ

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ