‘আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি মধ্যে নির্বাচন না হলে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হবে’

আরো পড়ুন

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী জানুয়ারির ২৯ তারিখের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। এটি যেভাবেই হোক না কেনো নির্বাচন হতে হবে। কারণ তা না হলে একটি সাংবিধানিক গ্যাপ (শূন্যতা) তৈরি হবে। সেই গ্যাপ তৈরি হলে দেশে একটা অরাজকতা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। সেটি তো নির্বাচন কমিশন হতে দিতে পারে না। কারণ নির্বাচন কমিশনের উপর যে দায়িত্ব- জাতীয় নির্বাচন করার জন্য।

আজ নির্বাচন কমিশন ভবনে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী যে কোনো দেশের যে কোনো সংস্থা আমাদের আবেদন করতে পারে। তারা আমাদের করলে আমরা অনুমোদন দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রালয়ে পাঠিয়ে দিলে তারা চলে আসে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ফেম্বোসার সদস্যদের দেশ বিশেষ করে আমাদের আশপাশের যেসব দেশ আছে তাদের আমরা ইনভাইট করি। আমরা শিগগিরই তাদের ইনভাইট জানাবো। সার্কভুক্ত দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে ভালো হয়। আমরা চাই দেশি-বিদেশি বেশি সংখ্যক পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করুক।

সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা ফ্লেক্সিবল করা হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসারদের অবহিত করে যেতে হবে। অবহিত করলে সে আপনাকে নিষেধ করতে পারবে না।

আপনারা কি মনে করছেন ভোটের আগে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা আসবেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তো আশা করি আসবেন।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তো একটি সংস্থা। পৃথিবীতে তো আরও অনেক দেশ আছে। ইউরোপে অনেক দেশ আছে, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়ায় অনেক দেশ আছে, সার্কভুক্ত দেশে আছে। এসব দেশ থেকে আসতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বলেছে পূর্ণাঙ্গ না, ছোট পরিসরে আসতে পারে। পরবর্তীতে হয়তো তারা মনেও করতে পারে বড় পরিসরে আসবো। এটি তো চূড়ান্ত কোনো কথা না।

আপনারা তো ভোটের জন্য শতভাগ প্রস্তুত হয়ে গেছেন। রাজনীতি পরিস্থিতি কি ভোটমুখী মনে করছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবিধানি অনুযায়ী জানুয়ারির ২৯ তারিখের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। এটি যেভাবেই হোক না কেনো নির্বাচন হতে হবে। কারণ তা না হলে একটি সাংবিধানিক গ্যাপ (শূনতা) তৈরি হবে। সেই গ্যাপ তৈরি হলে দেশে একটা অরাজকতা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। সেটি তো নির্বাচন কমিশন হতে দিতে পারে না। কারণ নির্বাচন কমিশনের উপর যে দায়িত্ব জাতীয় নির্বাচন করার জন্য কিন্তু প্রস্তুতি প্রয়োজন হয়। প্রস্তুতি কিন্তু আগে থেকে নিতে হয়। যেমন ভোটার তালিকা করতে হবে, ভোটকেন্দ্র করতে হবে। যারা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ব্যালট পেপার কেনার জন্য কাগজ প্রকিউরমেন্ট করতে হবে। নির্বাচন করার জন্য বাক্স লাগবে, সেগুলো কিনতে হবে, কালি লাগবে। সুই, সুতা নানান ধরনের জিনিস লাগবে। এখন নির্বাচন ডিসেম্বরে নাকি জানুয়ারিতে হবে সেটি পরের বিষয়। নির্বাচন যখনই করেন। আপনাকে প্রস্তুতি তো আগে থেকেই রাখতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা তো একটি শপথ করেছি নাকি? আমরা কিন্তু সরকারি বা কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মচারি না। আমরা কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়েছি এবং সংবিধানের দোহাই শপথ নিয়েছি। সেই শপথ তো আমাদের পূরণ করতে হবে। আমেরিকা আসবে না সেটি তো বলেনি। আমেরিকা আসলে আমরা তো খুশি। আমরা তো বলেছি সবাই আসেন। যে সমস্ত যোগ্যতার প্রয়োজন যে সমস্ত শর্ত আছে সেগুলো পূরণ করলে সবাই আসতে পারবে।

রাজনৈতিক দলগুলো কি ভোটের পথে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সঙ্কট আছে। নির্বাচন চায় না এমনটা তো কোনো বলছে না। আমাদের নিবন্ধিত যে রাজনৈতিক দল আছে কোনো দলই নির্বাচন চায় না এটি বলেনি। আমরা কেনো নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবো না।

নির্বাচনে পরিবেশ নিয়ে অনেকে বলছেন। বিষয়টি নজরে আনলে তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে হয়তো অনেকে কথা বলছেন। পরিবেশ যাতে সুন্দর করা যায় তার জন্য আমরা চেষ্টা করবো।

পরিবেশের সবটা সুন্দর করার দায়িত্ব তো আমাদের না। পরিবেশ সুন্দর করা আমাদের যেটুকু দায়িত্ব সেটুকু আমরা করে যাচ্ছি।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ